সাভারে তেলের ‘কৃত্রিম সংকট’, সরকারি নির্দেশনা না মানার অভিযোগ

সাভারে পেট্রোল পাম্পে তেলের ‘কৃত্রিম সংকট‘ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। সেইসঙ্গে সরকারি নির্দেশনা না মানারও অভিযোগ তুলেছেন ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায় পড়া সাধারণ মানুষ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাতে সাভারের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আনন্দপুর এলাকায় এস. আই চৌধুরী ফিলিং স্টেশন ১০০ টাকার অকটেন বিক্রি করতে দেখা গেছে। অপরদিকে সাভারের পাকিজার মোড় এলাকার আফজাল ফিলিং স্টেশনে ২০০ টাকার অকটেন বিক্রি করছে পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া, সাভারের রেড়িও কলোনি এলাকায় শাহরিয়া পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ করেছে পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ। এ সময় সাভারের হেমায়েতপুর ও বাইপাইলে অবস্থিত দুইটি পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রির একই চিত্র দেখা যায়।
এস. আই চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে বাইক নিয়ে অকটেন কিনতে আসেন মামুন হোসেন নামে একজন। তিনি ক্ষোভ নিয়ে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দিনে একবার দুই লিটার অকটেন নিতে পারবো। কিন্তু এই পেট্রোল পাম্পের ১০০ টাকার বেশি অকটেন বিক্রি করছে না। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশনা না মেনে তাদের ইচ্ছেমতো অকটেন বিক্রি করছে। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চাইলে তারা খারাপ ব্যবহার করছে। এতো অল্প তেল দিয়ে তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে অভিযোগ জানান তিনি।
আফজাল পেট্রোল পাম্পে অকটেন কিনতে এসে রবীন্দ্রনাথ রায় নামে একজন বলেন, পেট্রোল পাম্পের লোকজনের কাছে আমরা এখন জিম্মি হয়ে পড়েছি। তারা সরকারি নির্দেশনা না মেনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের নিজেদের ইচ্ছামতো তেল বিক্রি করছে। এতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে এবং মানুষ আতঙ্কিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি এই পাম্পে বাইকের জন্য অকটেন নিতে এসেছি। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ২০০ টাকার বেশি অকটেন দিচ্ছে না।
তবে এ বিষয়ে এস. আই চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। শনিবার থেকে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করবেন এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান নির্বাহী ওই কর্মকর্তা।
লোটন আচার্য্য/এএমকে