ঈদের কেনাকাটায় সোনারগাঁয়ের মার্কেট-ফুটপাতে উপচে পড়া ভিড়

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন বিপণি-বিতান, মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষজন।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রহমত ম্যানশন, আইয়ুব প্লাজা, এম রহমান প্লাজা, মামুন প্লাজা, সোনারগাঁ শপিং কমপ্লেক্স, নূরা ব্যাপারী মার্কেট, সাহাবুদ্দিন সুপার মার্কেট ও আম্বিয়া প্লাজাসহ বিভিন্ন বিপণি-বিতানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ।
এছাড়া তালতলা মার্কেট, কাঁচপুর ও নয়াপুর এলাকার দোকানপাটেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনা-বেচা। ঈদ উপলক্ষ্যে অনেক বিপণি-বিতানে করা হয়েছে মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা, যা উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের দিনে নতুন পোশাক পরার আনন্দকে ঘিরেই মূলত এই কেনাকাটার ব্যস্ততা। সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের জন্য পোশাক, প্রসাধনী, অলংকার, জুতা-স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন পণ্য কিনছেন ক্রেতারা।
সনমান্দী গ্রামের বাসিন্দা জুলি আক্তার বলেন, পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। ঈদের দিন সবাইকে নতুন পোশাকে দেখলে আনন্দটা আরও বেড়ে যায়।
গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর গ্রাম থেকে আসা ফয়সাল বলেন, দেশি পোশাকের দাম তুলনামূলক সহনীয় রয়েছে, তবে বিদেশি পোশাকের দাম কিছুটা বেশি।
মেঘনা উপজেলার নলচর গ্রামের তাছলিমা আক্তার ইভা জানান, এবারের ঈদে দেশি পোশাকই বেশি কিনেছেন। তবে মেয়েদের জন্য ভারতীয় ও পাকিস্তানি পোশাকও নিয়েছেন।
মোগড়াপাড়া চৌরাস্তার আরাফাত ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী বেনু বলেন, এবারের ঈদে সুতি কাপড়ের চাহিদা বেশি। পাথরের কাজের তুলনায় সুতার কাজের কামিজ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জরি, পুথি ও চুমকির কাজ করা সালোয়ার-কামিজের চাহিদাও রয়েছে।
মাইমুনা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মাহফুজ জানান, শার্ট-প্যান্ট ও পাঞ্জাবির পাশাপাশি এবার ফতুয়ার বিক্রিও ভালো। বিভিন্ন দোকানে পাঞ্জাবি ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং ফতুয়া ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
ওয়ান পয়েন্ট ফ্যাশনের ফাহিম বলেন, বিদেশি পোশাকের তুলনায় এ বছর দেশি পোশাকের চাহিদা বেশি। বিশেষ করে মাঝারি দামের পোশাকগুলোই বেশি বিক্রি হচ্ছে।
তবে অনেক ক্রেতা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় কিছু পোশাকের দাম বেড়েছে। তারপরও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক কিনছেন তারা।
ঈদকে ঘিরে সোনারগাঁয়ের মার্কেট ও দোকানগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
মীমরাজ হোসেন/এসএইচএ