সৌদিতে হামলায় নিহত বাচ্চু মিয়ার পরিবারের পাশে বিএনপি

সৌদি আরবে ইরানের মিসাইল হামলায় নিহত কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার প্রবাসী বাচ্চু মিয়ার (৪০) মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিহতের বাড়িতে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
নিহত বাচ্চু মিয়া কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের মৃত রইস উদ্দিনের মেজো ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মধ্যে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শোক ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার স্বজনদের।
স্বজনরা জানান, বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছে তার সন্তানরা। দ্রুত মরদেহ দেশে এনে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
এ সময় নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন। তিনি বলেন, সরকার প্রবাসীদের পাশে রয়েছে। নিহত বাচ্চু মিয়ার পরিবারটি অত্যন্ত অসচ্ছল। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করা হবে এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন খাঁন দিলীপ, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জায়দুল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুদসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার (৮ মার্চ) সৌদি আরবে ইফতারের আগে আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণে বাচ্চু মিয়াসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হন। অপর নিহত ব্যক্তির বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায়। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১২ জন আহত হন। জানা গেছে, শ্রমিক ক্যাম্পটির নিকটবর্তী একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে মিসাইলটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
মোহাম্মদ এনামুল হক হৃদয়/আরএআর