ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ব্যস্ত জুতা তৈরির কারিগররা

সপ্তাহখানেক পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের কেনাকাটায় বিপণীবিতানগুলোতে বাড়ছে ভিড়। ঈদে নতুন পোশাকের সঙ্গে প্রয়োজন নতুন জুতা। ফলে নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে জুতার কারখানাগুলোতে বাহারি ধরনের জুতা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীসহ জেলার বিভিন্ন পাদুকা পল্লীতে ব্যস্ততা তুঙ্গে। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কাজের চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কারিগররা এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত পার করছেন জুতা তৈরিতে। স্থানীয়ভাবে তৈরি এসব জুতার গুণগত মান ভালো ও দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় জেলা ছাড়িয়ে এখন তা পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
কর্মমুখর কারখানাগুলো
সরেজমিনে জেলার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনীর পাদুকাপল্লী ঘুরে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। কারখানায় কারখানায় চলছে চামড়া কাটা, সেলাই, সোল লাগানো আর ফিনিশিংয়ের কাজ। কেউ পালিশ করছেন, কেউবা নতুন জুতা প্যাকেটজাত করতে ব্যস্ত। ঈদ উপলক্ষ্যে বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে অনেক কারখানায় অতিরিক্ত শ্রমিকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কারখানা মালিক ও কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ট্যানারি থেকে জুতা বানানোর প্রক্রিয়া করে আনা চামড়া প্রথমে সাইজ মতো কাটা হচ্ছে। বিভিন্ন সাইজ মতো কাটা হলে তা মেশিনের সাহায্যে ফিনিশিং দেওয়া হয়। ফিনিশিং দেওয়ার পর পেস্টিং দিয়ে সাইজ মতো ডিজাইন করা হয় ও পুডিং মারা হয়। পেস্টিং দেওয়া শেষে জুতা পুরোপুরি হয়ে গেলে রং স্প্রে করে শুকাতে দেওয়া হয় এবং পরে তা বাজারজাত করা হয়।
কারিগর মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ঢাকার বংশাল থেকে পাকা চামড়া এনে স্লিপার, হাফ সু, নাগরা ও লোফার তৈরি করেন। মানভেদে এসব জুতা ৪০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
আরেক কারিগর মিলন দাস বলেন, আমার পরিবার এই পেশার আয়ের ওপরই নির্ভরশীল। ঈদের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ জোড়া পর্যন্ত জুতা বিক্রির আশা করছি। বেচাকেনা ভালো হলে পরিবার নিয়ে আনন্দমুখর ঈদ কাটাতে পারব।

স্থানীয় ক্রেতা আলাউদ্দিন ও মো. জসিম উদ্দিন বলেন , ব্র্যান্ডের জুতার চেয়ে স্থানীয় কারিগরদের তৈরি চামড়ার জুতা অনেক বেশি আরামদায়ক ও টেকসই। দাম সাশ্রয়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
চৌমুহনী এখন জুতা তৈরির অন্যতম বড় হাব। এখানকার তৈরি জুতার টেকসই গুণ আর আধুনিক ডিজাইনের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখানে ভিড় করছেন।
ইফাত সুজের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ রাসেল বলেন, রমজান উপলক্ষ্যে এখানে কয়েক কোটি টাকার জুতা বিক্রি হয়। আমাদের জুতাগুলো শতভাগ লেদার দিয়ে তৈরি। তাই এর চাহিদা অনেক। এখানকার তৈরি জুতার টেকসই গুণ আর আধুনিক ডিজাইনের কারণে নোয়াখালীর বাহিরে বিভিন্ন জেলায় জুতা যায়। এতে করে বাড়ছে কর্মসংস্থান।
চৌমুহনী পৌরসভার প্রশাসক ও বেগমগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান বলেন, চৌমুহনী বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে জুতা শিল্পের নীরব বিপ্লব ঘটছে। এখানকার ছোট ছোট কারখানায় অনেক উন্নত মানের জুতা তৈরি হয়। ঈদে যেন তারা ন্যায্যমূল্য পায় সেসব বিষয়ে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি।
হাসিব আল আমিন/আরএআর