লুট হওয়া জিওব্যাগ ফেরত দিতে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ‘সোনার বাংলা অ্যাভিনিউ’ অংশ থেকে ১০ হাজারের বেশি জিওব্যাগ লুটের ঘটনায় জড়িতদের ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আল্টিমেটাম দেন।
অনুষ্ঠানে তিনি লুটের ঘটনায় জড়িতদের আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে জিওব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জিওব্যাগ ফেরত না দিলে সংশ্লিষ্টদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হবে বলে জানানো হয়। এছাড়াও বিষয়টি সখিপুর থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এসময় সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে চরভাগাসহ আশপাশের জনপদ রক্ষায় সরকার ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংরক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। বাঁধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে জিওব্যাগ স্থাপন করা হয়েছে, যা নদীর তীব্র স্রোতের চাপ কমিয়ে বাঁধকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি রাতের আঁধারে এসব জিওব্যাগ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, যা বাঁধের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
তিনি আরও বলেন, যারা এই জিওব্যাগ চুরির সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত এসব অপকর্ম বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সফিকুর রহমান কিরণ বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দলের কারও যদি কোনো অপকর্মে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দল থেকেও বহিষ্কার করা হবে।
এর আগে, পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ‘সোনার বাংলা অ্যাভিনিউ’ অংশে মনাই হাওলাদার বাজার সংলগ্ন নদীর পাড়ে ১৮ হাজার বালুভর্তি জিওব্যাগ মজুদ করে রাখা হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে এসব জিওব্যাগ নদীতে ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করার কথা থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় একটি মহল রাতের অন্ধকারে এবং দিনের বেলায় প্রকাশ্যেই ওই জিওব্যাগের মধ্যে থাকা বালু সরিয়ে ব্যাগগুলো হরিলুট করে নিয়ে যায়। পরে গুনে দেখা যায়, মজুদ করা জিওব্যাগের মধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি জিওব্যাগ লুট হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে নড়িয়া উপজেলার চরমোহন এলাকা থেকে সখিপুর থানার উত্তর তারাবুনিয়া পর্যন্ত প্রায় ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার স্থায়ী ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করে, যা গত দুই বছর ধরে চলমান রয়েছে।
নয়ন দাস/এসএইচএ