• সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • সারাদেশ
    জেলার খবর
  • খেলা
  • বিনোদন
  • জবস

বিজ্ঞাপন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. কামরুল ইসলাম

গোপনীয়তার নীতিব্যবহারের শর্তাবলিযোগাযোগআমাদের সম্পর্কেআমরাআর্কাইভবিজ্ঞাপন

৯৫ সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ, বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোন, ঢাকা ১২১২।

+৮৮০ ৯৬১৩ ৬৭৮৬৭৮

phone+৮৮০ ১৩১৩ ৭৬৭৭৪২

whatsapp+৮৮০ ১৭৭৭ ৭০৭৬০০

info@dhakapost.com

বিজ্ঞাপন

  1. সারাদেশ
  2. গাইবান্ধা

গাইবান্ধায় জ্বালানি সংকটে বন্ধ পাম্প, ২০০ টাকার তেল পেতেও ভোগান্তি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধিগাইবান্ধা
১৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৭
অ+
অ-
গাইবান্ধায় জ্বালানি সংকটে বন্ধ পাম্প, ২০০ টাকার তেল পেতেও ভোগান্তি

গাইবান্ধা জেলা শহরে তীব্র আকার ধারণ করেছে জ্বালানি সংকট। আগের মতো দীর্ঘ লাইন না থাকলেও চাহিদামতো পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকসহ সব ধরনের যানবাহনের চালকরা। সংকট এতটাই প্রকট যে, অনেক পাম্পে ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না, আবার কোথাও সেই পরিমাণটুকুও মিলছে না। ইতোমধ্যে জ্বালানি না থাকায় একটি ফিলিং স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে সরেজমিনে গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

জেলা শহর ও শহরতলীতে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহের জন্য চারটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে শহরের প্রাণকেন্দ্রে দুটি পাম্প অবস্থিত—একটি গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন এবং অপরটি দাড়িয়াপুর রোড এলাকায়।

এর মধ্যে পুলিশ লাইন্স-সংলগ্ন হাছনা ফিলিং স্টেশন জ্বালানি সংকটের কারণে গত দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শহরের সবচেয়ে বড় ফিলিং স্টেশন ডিবি রোডের বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন এস এ কাদির এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশন। এখানে দুটি অকটেন ও দুটি পেট্রোল মেশিন থাকলেও দুই দিন আগেই পেট্রোল শেষ হয়ে যাওয়ায় দুটি মেশিন বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি একটি অকটেন মেশিন দিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের সর্বোচ্চ ২০০ টাকার অকটেন দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে অবস্থিত রহমান ফিলিং স্টেশনেও ডিজেল শেষ হয়ে যাওয়ায় ডিজেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা শহরে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৪ হাজার লিটার অকটেন এবং প্রায় ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে চাহিদার অর্ধেকেরও কম। ফলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

তারা আরও জানান, সরকারিভাবে জ্বালানির মজুদ থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল নেই। অগ্রিম টাকা জমা দিতে চেয়েও চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই পাম্পে তেল নিতে আসা গ্রাহকদের সঙ্গে কর্মচারীদের তর্ক-বিতর্কের ঘটনাও ঘটছে।

শুরু থেকেই সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের তদারকিতে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রতি মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার পেট্রোল বা অকটেন, দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল, পিকআপে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং প্রাইভেটকারে সর্বোচ্চ ১০ লিটার অকটেন দেওয়া হচ্ছে।

এস এ কাদির এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ সরকার মিঠু মিয়া বলেন, আমাদের পাম্পে প্রতিদিন ২০০০ থেকে ২৫০০ লিটার পেট্রোল, ১৫০০ থেকে ২০০০ লিটার অকটেন এবং প্রায় ১২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকে। সেখানে দুই দিন পরপর পেট্রোল ও অকটেন মিলিয়ে মাত্র ৪৫০০ লিটার দেওয়া হচ্ছে। ডিজেলও একই পরিমাণ। তার ওপর শুক্রবার ও শনিবার সরবরাহ বন্ধ থাকে।

তিনি বলেন, আমাদের পেট্রোল ও ডিজেল গতকালই শেষ হয়ে গেছে। কিছু অকটেন আছে, সেটাও অল্প সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। শনিবার সন্ধ্যার দিকে তেল আসার কথা থাকলেও নিশ্চিত নয়।

রহমান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জুয়েল মিয়া বলেন, প্রতিদিন তাদের পাম্পে প্রায় ২০০০ লিটার পেট্রোল, ১৫০০ লিটার অকটেন এবং ১০ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে না।

তিনি বলেন, ছয় দিন পর আমরা মাত্র ৩০০০ লিটার জ্বালানি পেয়েছি। এর মধ্যে আজ সকাল ১০টার দিকেই ডিজেল শেষ হয়ে গেছে। এখন যে পরিমাণ পেট্রোল ও অকটেন আছে, তা দিয়ে হয়তো রাত পর্যন্ত চলবে। এরপর মেশিন বন্ধ রাখতে হতে পারে।

অন্যদিকে, জ্বালানি না থাকায় বন্ধ হয়ে যাওয়া মেসার্স হাসনা এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, ১১ মার্চ থেকে আমাদের ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। তেল না পেলে চালু করব কীভাবে? আমাদের পাম্পে প্রতিদিন ১১০০ থেকে ১২০০ লিটার পেট্রোল, ৩০০ থেকে ৪০০ লিটার অকটেন এবং ২০০০ থেকে ২৫০০ লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে।

গাইবান্ধা ফিলিং স্টেশনের তত্ত্বাবধায়ক শাহেদ জানান, তাদের প্রতিদিন ২০০০ লিটার পেট্রোলের চাহিদা থাকলেও গত ১১ মার্চ পেয়েছেন মাত্র ৩০০০ লিটার। প্রতিদিন ৬০০ লিটার অকটেনের চাহিদা থাকলেও একইদিন ২০০০ লিটার দেওয়া হয়েছে। আর ডিজেলের ৭০০০ লিটার চাহিদার বিপরীতে ১০ মার্চ পেয়েছেন মাত্র ৪৫০০ লিটার।

তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে সীমিত তেল দেওয়ায় অনেক গ্রাহক ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। কেউ কেউ জোর করে বেশি তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। না দিলে হুমকি-ধমকি এমনকি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিকে পাম্পে এসে কর্মচারীদের হুমকি দিতে এবং অফিস কক্ষে ঢুকে চড়াও হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন পাম্প সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বন্ধ থাকা হাছনা ফিলিং স্টেশন থেকে তেল না পেয়ে অনেক মোটরসাইকেল চালককে ফিরে যেতে দেখা যায়।

মোটরসাইকেল চালক রুহুল আমিন বলেন, সরকার বলছে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু বাস্তবে পাম্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।

এস এ কাদির এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা সিরাজ উদ্দিন বলেন, পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকে এসেছি। ২০০ টাকার বেশি তেল দেয় না। আবার পেট্রোলও নেই, বাধ্য হয়ে অকটেন নিতে হচ্ছে।

একই পাম্পের গ্রাহক নয়ন সরকার বলেন, এক পাম্পে ২০০ টাকার বেশি দেয় না, কিন্তু কাছের আরেক পাম্পে আবার নেওয়া যায়। এতে কোনো সমাধান হচ্ছে না। আমাদের চাহিদামতো তেল দেওয়া উচিত।

গাইবান্ধা ফিলিং স্টেশনে ডিজেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যান নান্নু পরিবহন নামের একটি গাড়ির সুপারভাইজার ওয়াদুদ। তিনি জানান, শহরের দুই পাম্পে তেল পাইনি। এখানেও না পেলে গাড়ি বন্ধ রাখতে হবে।

জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসন না হলে পরিবহন ব্যবস্থা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এএমকে

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

জনদুর্ভোগ

ফলো করুন

MessengerWhatsAppGoogle News

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকট, পাম্পে গ্রাহকদের ভিড়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকট, পাম্পে গ্রাহকদের ভিড়

জয়পুরহাটে ৩২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, শত হেক্টর জমিতে জমেছে পানি

জয়পুরহাটে ৩২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, শত হেক্টর জমিতে জমেছে পানি

ফুলের শোভা ছড়ানো মহাসড়কে টিকটক ভিডিও ঠেকাতে পুলিশের টহল জোরদার

ফুলের শোভা ছড়ানো মহাসড়কে টিকটক ভিডিও ঠেকাতে পুলিশের টহল জোরদার

উত্তরের ঈদযাত্রায় গলার কাঁটা এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর ১৩ কি.মি. সড়ক

উত্তরের ঈদযাত্রায় গলার কাঁটা এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর ১৩ কি.মি. সড়ক