রাজবাড়ীতে দুই দিন পাম্পে অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না চালকরা

রাজবাড়ী জেলার কোন ফিলিং স্টেশনে নেই ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন। সকল ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সংকটের কারণে ভোক্তা পর্যায়ে তেল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। তেল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
শহরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, তেলের আশায় অনেক চালক গাড়ি নিয়ে পাম্পে এলেও তেল না থাকায় তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে কেউ হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ তেল পাওয়ার আশায় পাম্পের সামনে অপেক্ষা করছেন।
সরেজমিনে রাজবাড়ীর পলাশ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ডিজেলের আশায় সেখানে গতকাল থেকেই অপেক্ষা করছে কয়েকটি পরিবহন বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। এছাড়াও পেট্রোল ও অকটেন না থাকায় ফিরে যাচ্ছে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসগুলো।পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ টানিয়ে রাখা হয়েছে।
শ্রীপুর রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনের সামনে ‘ডিজেল নেই’ লেখা নোটিশ টানিয়ে রাখতে দেখা গেছে। রাস্তার ওপর টায়ার রেখে পাম্প কর্তৃপক্ষ সেখানে ডিজেল সংকটের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও পাম্পের পেট্রোল ও অকটেন বুথের সামনে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ টানানো দেখা যায়। এই পাম্পেও মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত গাড়িগুলো তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
শহরের নতুন বাজার কাজী ফিলিং স্টেশনে গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানেও গতকাল দুপুর থেকে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
সরকার পরিবহন বাসের হেলপার কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা গতকাল থেকে এই পর্যন্ত ডিজেল পাইনি, এ কারণে কোনো ট্রিপে যেতে পারিনি। আজকে তেল আসার কথা। এজন্য পাম্পে সিরিয়াল দিয়ে গাড়ি রেখে দিয়েছি। পাম্প থেকে যদি গাড়ি সরাই তাহলে সিরিয়ালের কারণে তেল পাব না।
এনজিও কর্মী রুমন শেখ বলেন, আমাকে মোটরসাইকেল নিয়ে জেলার বিভিন্ন জায়গায় কাজের জন্য যেতে হয়। আগে প্রতিদিন যে ২০০ টাকার তেল দিত তাতে সারা জেলা ঘুরলেই তেল শেষ হয়ে যায়। তেলের জন্য বিভিন্ন পাম্পে ঘোরা লাগে। আজকে একই অবস্থা, সারা রাজবাড়ীর কোনো পাম্পেই তেল নেই। মোটরসাইকেল ঠেলে পাম্প পর্যন্ত আনা লাগছে। এখন অপেক্ষা করছি কখন তেল আসবে।
বিজ্ঞাপন
কাভার্ডভ্যান চালক আব্দুস সালাম বলেন, আমি গতকাল ঢাকা থেকে কালুখালীতে এসেছিললাম মাল নিয়ে। মাল নামিয়ে কয়েকটি পাম্প ঘুরে রাজবাড়ীর পলাশ পাম্পে বিকেলে এসেছি, তেল না পেয়ে সারারাত এখানে ছিলাম। সকাল হলেও এখন পর্যন্ত তেল পাইনি। পাম্প থেকে জানিয়েছে তেল আসলে পাবো। এখন তেল কখন আসবে, কতক্ষণ বসে থাকতে হবে জানি না।
ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের হেলপার কাজী রিমন বলেন, যাত্রী নামিয়ে আমরা দুই দিন ধরে পলাশ পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। পাম্প থেকে তেল দিচ্ছে না। আমরা দুইদিন ধরে বসে আছি। আমার খুব ভোগান্তি হয়েছে, সামনে ঈদ বাজার। গাড়ি না চললে আমরা ইনকামও করতে পারবো না।
মোটরসাইকেল চালক ফজলুল হক বলেন, তেল না থাকার কারণে আমাদের চলাচলে খুব অসুবিধা হচ্ছে। সরকারকে তেলের বিষয়টিতে গুরুত্বের সাথে নজর দেওয়া উচিত।
পলাশ ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার বিপুল কুমার বৈদ্য বলেন, ডিপো থেকে আমাকে পর্যাপ্ত তেল দিচ্ছে না। আমাকে সপ্তাহে ২১ হাজার লিটার তেল দিয়েছে, কিন্তু আমার দৈনিক চাহিদা ৯ হাজার লিটার, আর সপ্তাহে ৬৩ হাজার লিটার। তাহলে আমি কীভাবে কাস্টমারকে তেল দেবো। আমাদের মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপো থেকেই তেল দিচ্ছে না। তেল নেওয়ার জন্য আমাদের পাম্পে বাস ও ট্রাক সিরিয়াল ধরে অপেক্ষা করছে। তেল আসলে তাদেরকে দেওয়া হবে। কিন্তু কখন আসবে সেটা বলতে পারছি না।
রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার হাফিজুল ইসলাম মিলন বলেন, আমাদের প্রতিদিনের চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। পেট্রোল ও অকটেন আমরা গতকাল পর্যন্ত বিক্রি করেছি। আজকে থেকে আর দিতে পারছি না, তেল নেই। আর ডিজেল গতকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। আমরা চাহিদার থেকেও অর্ধেকের কম তেল পাচ্ছি। যার কারণে দ্রুত তেল আসা মাত্রই শেষ হয়ে যাচ্ছে। খুলনা ডিপো থেকে আমাদের তেল দিচ্ছে না, ডিপো থেকে বলছে তাদের তেল সংকট।
এদিকে জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরএআর