‘নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বিষোদগার করছেন সাবিরা মুন্নি’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে পরাজিত হয়ে দলীয় নেতাদের নামে বিষোদগার করছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নি। এমনকি সভা কিংবা গণমাধ্যমেও বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার শুরু করেছেন। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে যশোরের ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ। তিনি বলেন, নিজের সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই সাবিরা সুলতানা দলের ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন।
ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ বলেন, সাবিরা সুলতানা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন পান। নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের পরে সাবিরা সুলতানা সমাবেশ কিংবা গণমাধ্যমে তার পরাজিত হওয়ার পেছনে দুই উপজেলার দলীয় শীর্ষ নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতাকে উল্লেখ করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনে পরাজয়ের মূল কারণ প্রার্থীর অদক্ষতা, অহংকার এবং তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্নতা। তিনি দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত আত্মীয়-স্বজনদের গুরুত্ব দিয়েছেন। নির্বাচনের সময় দলীয় ব্যানার ব্যবহার না করে তার স্বামীর নামে করা ‘নাজমুল ইসলাম ফাউন্ডেশন’ এর ব্যানারে প্রচার চালিয়ে তিনি মূলধারার নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে চলেন। নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে উপজেলা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করে পকেট কমিটি গঠন এবং ছাত্রদল ও যুবদলের ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে দলে বিভক্তি সৃষ্টি করেন।
বিজ্ঞাপন
নিপুণ বলেন, এই আসনে প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রায় ১৩ হাজার ভোট পেয়েছেন, সেখানে সাবিরা সুলতানার প্রাপ্ত ভোট মাত্র ১ হাজার ৬০০-এর কিছু বেশি। এটি প্রার্থীর প্রতি সাধারণ ভোটারদের অনাস্থারই বহিঃপ্রকাশ। সাবিরা সুলতানা উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসেননি। বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনামলে হামলা-মামলার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো এখন তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে তিনি নিজ কেন্দ্র কীর্তিপুরসহ বেশিরভাগ কেন্দ্রে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সাবেরা সুলতানার এই ধরনের মিথ্যাচার দলের ঐক্য বিনষ্ট করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। তারা দলের হাই কমান্ডের কাছে তার বিভ্রান্তিকর এ অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোর্তজা এলাহী টিপু, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার শহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আব্দুস সাত্তার, বিএনপি নেতা সরদার শাহজাহান আলী, নুরুজ্জামান, তবিবর রহমান, লিয়াকত আলী, শাজাহান আলী, মিজানুর রহমান, জামশেদ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগের বিষয়ে সাবিরা সুলতানা মুন্নি বলেন, এরা একটি সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক চক্র। ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজি দখলবাজি মাদকসহ নানা অপকর্মে জড়িতদের পৃষ্টপোষকতা করে আসছে তারা। দফায় দফায় জামায়াতের সাথে বৈঠকসহ আর্থিক লেনদেন করেছে। আমি নির্বাচিত হলে তাদের অনৈতিক কাজে বিঘ্নতা ঘটার সম্ভাবনা দেখেই তারা আমার বিরোধিতা করেছে।
রেজওয়ান বাপ্পী/আরএআর