• সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • সারাদেশ
    জেলার খবর
  • খেলা
  • বিনোদন
  • জবস

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

  1. সারাদেশ
  2. ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর উদ্যোগে প্রতিদিন ৪০০ মানুষের একসঙ্গে ইফতার

রেদওয়ান মিলন
ঠাকুরগাঁও
১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:১৪
অ+
অ-
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর উদ্যোগে প্রতিদিন ৪০০ মানুষের একসঙ্গে ইফতার

ইফতারের সময় হতে তখনও প্রায় ৩৫ মিনিট বাকি। ততক্ষণে ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে চারপাশে। সারি সারি প্লেটে সাজানো হচ্ছে ইফতারি। কেউ ছোলা ঢালছেন, কেউ মুড়ি মেপে দিচ্ছেন, কেউ আবার শরবত বানাতে ব্যস্ত। অন্যদিকে লাইন ধরে বসে আছেন অসংখ্য মানুষ। কারও হাতে রিকশার হ্যান্ডেলের দাগ, কেউ দিনমজুর, কেউ পথশিশু, কেউবা সাধারণ শ্রমজীবী। তাদের সামনে রাখা প্লেটভর্তি খাবার।

বিজ্ঞাপন

চোখে একরাশ অপেক্ষা-মাগরিবের আজানের জন্য। ধীরে ধীরে মানুষ আরও আসছেন। স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের জায়গা করে দিচ্ছেন। এক সময় চারপাশ ভরে ওঠে মানুষের উপস্থিতিতে। তারপর মাগরিবের আজান ভেসে আসতেই যেন বদলে যায় দৃশ্য। সবাই একসঙ্গে হাত বাড়ান খেজুরের দিকে। শুরু হয় ইফতার।

ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের পূর্ব শান্তিনগর এলাকার ওমর ফারুক (রা.) মসজিদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে গেলে রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিনই দেখা যায় এমন মানবিক দৃশ্য।

এখানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মানুষের জন্য বিনামূল্যে আয়োজন করা হয় ইফতার ও রাতের খাবারের। রোজাদারদের প্লেটে ইফতারে থাকে ছোলা, বুন্দি, মুড়ি, শরবত, খেজুর, পেয়াজু, বেগুনি ও আলুর চপ। ইফতারের পর রাতের খাবারও পরিবেশন করা হয়। সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে মেন্যুতে গরুর মাংস, ডিম, মুরগি, সামুদ্রিক মাছ ও সবজি দিয়ে রান্না করা খাবার।

বিজ্ঞাপন

এত বড় আয়োজনের পেছনে আছেন পূর্ব শান্তিনগর এলাকার মৃত হাফিজুর রহমান-তহমিনা বেগম দম্পতির মেজো ছেলে, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ও মসজিদ কমিটির সভাপতি তানজির মো. শাহীন কবির। তিনি ২০১৩ সাল থেকে নিয়মিত রমজান মাসে এই গণ-ইফতার ও খাবারের আয়োজন করে আসছেন।

মসজিদ কমিটির সদস্যরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মানুষের ইফতার ও রাতের খাবারের জন্য খরচ হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। পুরো রমজান মাসে এই আয়োজন পরিচালনায় ব্যয় হয় প্রায় ১২ লাখ টাকা। এই মহৎ কাজকে এগিয়ে নিতে প্রতিদিন নিরলস পরিশ্রম করছেন ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবী। তারা দুপুরের পর থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেন। মসজিদের পাশেই ৬ জন বাবুর্চি রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধোয়া ওঠা রান্না আর মানুষের ভিড়ে জমে ওঠে পুরো এলাকা।

ইফতার করতে আসা রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক সময় ঠিকমতো ইফতার জোটানোও কঠিন হয়ে যায়। এখানে এসে প্রতিদিন শান্তিতে বসে ইফতার করতে পারি। সবার সঙ্গে একসঙ্গে বসে ইফতার করতে আমার অনেক ভালো লাগে। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটা অনেক বড় সহায়তা।

বিজ্ঞাপন

এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক বলেন, সারাদিন ভিক্ষা করি, খাবারের জোগাড় হয় না। এখানে এসে শান্তিতে বসে ইফতার করতে পারি। কেউ খারাপ চোখে দেখে না, সবাই একসঙ্গে বসে খাই।

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, আমি কাজের জন্য শহরে এসেছিলাম। আশপাশে ইফতারের কোনো দোকান খোলা ছিল না। পরে এখানে এসে ইফতারের আয়োজন দেখে আমি বসে যাই। আমাদের মতো পথচারী রোজাদারের জন্য এটি খুবই উপকারে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই আয়োজনের ফলে এলাকার দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশাপাশি অনেক পথচারী রোজাদারও ইফতার করার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এখানে এসে ইফতার করেন। কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, আবার কেউ শহরে কোনো কাজে এসে ইফতারের সময় হয়ে গেলে এখানে চলে আসেন। সবার জন্যই সমানভাবে ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির মিডিয়া সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ ঢাকা পোস্টকে বলেন, মসজিদ কর্তৃপক্ষ রমজান মাসজুড়ে পুরো মসজিদে ইফতার ও রাতের খাবারের আয়োজন করে থাকে। এখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিতে পারেন, এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। শুধু স্থানীয় মুসল্লিরাই নয়, অন্যান্য জায়গা থেকেও মানুষ এখানে এসে ইফতার ও রাতের খাবার গ্রহণ করেন। এই আয়োজন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অর্থের পুরোটা নিজ উদ্যোগে বহন করছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী তানজির মো. শাহীন কবির।

তিনি আরও বলেন, শুধু খাবারের আয়োজনই নয়, মসজিদ কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত মুসল্লিদের মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেন। প্রতি বছর নামাজ ও ওজুর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া, এবার রমজানে হেফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। প্রতিযোগিতার শেষে ৯ জন বিজয়ীকে তিনটি ক্যাটাগরিতে নির্বাচন করা হয়েছে। বিজয়ীদের মধ্যে ৫০ হাজার টাকা প্রাইজমানি এবং কুরআন শরীফও প্রদান করা হবে।

আর মসজিদ কমিটির সভাপতি ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী তানজির মো. শাহীন কবির ভিডিও বার্তায় ঢাকা পোস্টকে জানান, তিনি ওমর ফারুক (রা.) মসজিদের পক্ষ থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিদিন রোজাদারদের জন্য ইফতার ও রাতের খাবারের আয়োজন করে আসছেন।

তিনি বলেন, রমজান মাস আমাদের জন্য দোয়া, সওয়াব এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাস। তাই চেষ্টা করি যাতে এলাকার অসচ্ছল, দুস্থ ও পথচারী রোজাদাররা শান্তিতে ইফতার করতে পারেন। তাদের মুখে হাসি ফোঁটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।

রেদয়ান মিলন/এএমকে

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

ফলো করুন

MessengerWhatsAppGoogle News

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১০ বছরের শিশুর গায়ে আগুন দিল কিশোর

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১০ বছরের শিশুর গায়ে আগুন দিল কিশোর

দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রথম স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, দ্বিতীয় স্ত্রীসহ স্বামী গ্রেপ্তার

প্রথম স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, দ্বিতীয় স্ত্রীসহ স্বামী গ্রেপ্তার

‎১৯ কোটি টাকার রাজস্ব কাপ্তাই হ্রদে, সাত মাসেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ

‎১৯ কোটি টাকার রাজস্ব কাপ্তাই হ্রদে, সাত মাসেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ