• সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • সারাদেশ
    জেলার খবর
  • খেলা
  • বিনোদন
  • জবস

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

  1. সারাদেশ
  2. নাটোর

ঈদের ছুটিতে নাটোর: রাজকীয় আভিজাত্য আর সবুজের হাতছানি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধিনাটোর
১৬ মার্চ ২০২৬, ১৭:০৫
অ+
অ-
ঈদের ছুটিতে নাটোর: রাজকীয় আভিজাত্য আর সবুজের হাতছানি

‘আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন, আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।’- জীবনানন্দ দাশের সেই কালজয়ী কবিতার বনলতা সেনের শহর নাটোর। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন এই জেলা। আসন্ন ঈদের লম্বা ছুটিতে যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে যারা একটু প্রশান্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য রাজকীয় আভিজাত্য আর সবুজের সমারোহে সাজানো নাটোর হতে পারে একটি আদর্শ গন্তব্য।

বিজ্ঞাপন

নাটোরে পর্যটকদের জন্য প্রধান আকর্ষণ মূলত- উত্তরা গণভবন, নাটোর রাজবাড়ি, গ্রীন ভ্যালি পার্ক এবং এই সময়ের শস্যলমণ্ডিত চলনবিল। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ঈদের ছুটিতে নাটোর ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্য।

উত্তরা গণভবন: প্রাচীন স্থাপত্যকলার অপরূপ নিদর্শন

নাটোর শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার উত্তরে দিঘাপতিয়ায় অবস্থিত উত্তরা গণভবন। যা মূলত দিঘাপতিয়া রাজপ্রাসাদ। ৪১ একর জমির ওপর বিস্তৃত এই বিশাল প্রাসাদটি আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা দয়ারাম রায় নির্মাণ করেন। ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মূল প্রাসাদটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজা প্রমদানাথ রায় বর্তমানের নয়নাভিরাম এই রাজকীয় রূপটি দান করেন।

বিজ্ঞাপন

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এটিকে 'উত্তরা গণভবন' হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা বর্তমানে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র ও পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।

এই রাজবাড়ির প্রধান ফটকের ওপর স্থাপিত বিশাল ঘড়ি এবং ইতালীয় স্থাপত্যশৈলীর কারুকাজ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। প্রাসাদের ভেতরে রয়েছে দেশি-বিদেশি দুর্লভ প্রজাতির গাছের বাগান, মার্বেল পাথরের মেঝে এবং দামি আসবাবপত্র সজ্জিত রাজকীয় কক্ষ। রাজবাড়ির চারপাশের লেক এবং সুদৃশ্য বাগান ইউরোপীয় ও মোগল স্থাপত্যের এক অনন্য সংমিশ্রণ। ইতিহাস ও আভিজাত্যের সাক্ষী হিসেবে এই ভবনটি কেবল নাটোর নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের এক অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ। 

এখানে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন বিশাল সিংহ দুয়ার। যার ওপরের ইতালীয় ঘড়িটি আজও সঠিক সময় জানান দেয়। প্রাসাদের ভেতরে রয়েছে ইতালীয় গার্ডেন, যেখানে রয়েছে শ্বেতপাথরের চারটি নারী ভাস্কর্য। এছাড়া এখানে রয়েছে দুষ্প্রাপ্য বৃক্ষরাজি যেমন নাগালিঙ্গম, কর্পূর ও হৈমন্তী যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বর্তমানে এখানে একটি সংগ্রহশালা ও মিনি চিড়িয়াখানাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সময়সূচি ও টিকিট : প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে উত্তরা গণভবন। গণভবনে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা। তবে, ৬০ বছরের ঊর্ধে জ্যেষ্ঠ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য আইডি কার্ড প্রদশর্ন সাপেক্ষে ২০ টাকা প্রবেশমূল্য রয়েছে।

যাতায়াত : শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে অটো রিকশা যোগে ১৫-৩০ টাকা ভাড়ায় খুব সহজেই উত্তরা গণভবনে যাওয়া যায়।

নাটোর রাজবাড়ি : রাণী ভবানীর স্মৃতিধন্য আঙিনা

শহরের কেন্দ্রস্থলেই অবস্থিত অর্ধবঙ্গেশ্বরী রাণী ভবানীর স্মৃতিবিজড়িত নাটোর রাজবাড়ি। ১৭১০ সালের দিকে রাজা রামজীবন এটি স্থাপন করেন। বিশাল এই রাজবাড়িটি বড় তরফ ও ছোট তরফ নামে দুটি অংশে বিভক্ত।

এখানে ছোট-বড় ৮টি ভবন এবং অসংখ্য পুকুর রয়েছে, যার মধ্যে জয়টুঙ্গি ও তারকেশ্বর উল্লেখযোগ্য। এছাড়া এখানকার বিশাল শিব মন্দির এবং দেয়ালে খোদাই করা টেরাকোটার কারুকার্য পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। ঐতিহাসিক এই রাজবাড়িতে বর্তমানে পূজা অর্চনার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য পরিবার পরিজনসহ পরিদর্শনের মনোরম পরিবেশ রয়েছে।

সময়সূচি ও টিকিট : প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। প্রবেশ মূল্য সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ২০ টাকা, তবে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫ টাকা। 

যাতায়াত : শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে ১০-৩০ টাকা রিক্সা ভাড়ায় খুব সহজেই নাটোর রাজবাড়ীতে যাওয়া যায়।

হালতি বিল: যেন সবুজের ক্যানভাস

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুল, খাজুরা, মাধনগর ও ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের এক বিশাল এলাকা জুড়ে এই হালতি বিল বিস্তৃত। নাটোর শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার উত্তরে এর অবস্থান। বর্ষাকালে যখন এই বিলটি পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে, তখন বিলের মাঝখানে অবস্থিত ছোট ছোট গ্রামগুলোকে একেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো মনে হয়। যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বৈশাখ মাস থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত এই বিল এলাকা প্রায় ৫ থেকে ৮ ফুট পানিতে নিমজ্জিত থাকে।

বর্ষাকালে যখন উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ে, তখন সমুদ্রের অভাব মেটাতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসে। বর্ষায় বিলের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে এবং নৌ-ভ্রমণের জন্য পাটুল-হাপানিয়া এলাকায় প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে।

বর্তমানে বিলে পানি সরে যাওয়ায় বিশাল চলনবিল এখন কৃষকের ক্যানভাস। মাইলের পর মাইল জুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে ধানের ক্ষেত। দিগন্তজোড়া এই সবুজ মাঠ আর মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া আঁকাবাঁকা পথে ভ্রমণ পর্যটকদের দেবে ভিন্ন এক প্রশান্তি। বিলের মাঝের ৭ কিলোমিটার সাবমারসিবল (পাটুল-খাজুরা) সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় দুপাশের ফসলের মাঠ আর গ্রামীণ জনজীবনের দৃশ্য যান্ত্রিকতা ভুলিয়ে দেবে।

যাতায়াত : নাটোর শহর থেকে অটো বা সিএনজিতে ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় পাটুল গিয়ে সেখান থেকে ইজিবাইকে বা ভ্যানগাড়িতে বিলে ঘুরতে পারবেন।

গ্রীন ভ্যালি পার্ক : প্রকৃতির কোলে আধুনিক বিনোদন

নাটোরের লালপুর উপজেলায় অবস্থিত ‘গ্রীন ভ্যালি পার্ক’ বর্তমানে উত্তরবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। লালপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে প্রায় ১২৩ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই পার্কটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আধুনিক রাইডের এক অপূর্ব সমন্বয়। পরিবার নিয়ে সময় কাটানো বা পিকনিকের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।

পার্কের ভেতরে প্রায় ৩০ একর জুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল নয়নাভিরাম লেক রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা স্পিডবোট বা প্যাডেল বোটে চড়ে সময় কাটাতে পারেন। এছাড়া শিশুদের জন্য রয়েছে বিশেষ জোন। উল্লেখযোগ্য রাইডগুলোর মধ্যে রয়েছে মিনি ট্রেন, বুলেট ট্রেন, নাগরদোলা, ম্যারি-গো-রাউন্ড, পাইরেট শিপ, হানি সুইং এবং একটি চমৎকার ওয়াটার পার্ক ও সুইমিং পুল। 

পার্কের ভেতরে রয়েছে নিজস্ব ক্যাফেটেরিয়া, শ্যুটিং স্পট, আধুনিক পিকনিক স্পট এবং সভা-সেমিনারের জন্য কনফারেন্স রুম। এছাড়া পর্যটকদের জন্য নিরাপদ কার পার্কিং এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। 

সময়সূচি ও টিকিট : প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৬টা পর্যন্ত পার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। পার্কের প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ৬০ টাকা। রাইড ফি সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। ওয়াটার পার্কের প্রবেশ মূল্য ২৫০-৩০০ টাকা।

যাতায়াত : নাটোরের আব্দুলপুর রেলওয়ে জংশনে নেমে অটো বা সিএনজি যোগে সহজেই পার্কে পৌঁছানো যায় (দূরত্ব প্রায় ১২ কিমি)। ভাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকা।

এছাড়া, ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী বা বাঘাগামী বাসে এসে লালপুর নামা যায়। নাটোর, বনপাড়া বা রাজশাহী থেকেও সরাসরি বাস বা সিএনজিতে গ্রীন ভ্যালি পার্কে আসা সম্ভব।

নাটোরে খাবার, যাতায়াত ও রাত্রিযাপন

নাটোর ভ্রমণে এসে বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা’র স্বাদ না নিলে ভ্রমণ যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। নাটোর জেলার প্রায় সর্বত্রই কাঁচাগোল্লা পাওয়া যায়। তবে আসল স্বাদ পেতে হলে কিছু পরিচিত দোকান থেকেই কেনা ভালো। নাটোর শহরের লালবাজারে কালীমন্দিরের সামনে অবস্থিত ছোট্ট ও জরাজীর্ণ জয়কালীবাড়ি মিষ্টির দোকানকে নাটোরের সেরা কাঁচাগোল্লার দোকান হিসেবে মনে করা হয়। এছাড়া নিচাবাজারের মৌচাক, শিলা মিষ্টিবাড়িসহ আরও কয়েকটি দোকানেও ভালো মানের কাঁচাগোল্লা পাওয়া যায়। বর্তমানে নাটোরের কাঁচাগোল্লার প্রতি কেজির দাম সাধারণত ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে।

পাশাপাশি নাটোর ভ্রমণে এসে খাবারের জন্যও রয়েছে বেশ কিছু জনপ্রিয় হোটেল ও রেস্তোরাঁ। শহরের মৌচাক, পচুর হোটেল, স্টেশন বাজারের নয়ন হোটেলসহ কয়েকটি খাবারের হোটেল ভোজনরসিকদের কাছে বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয়। থাকার জন্য নাটোর শহরে সাহারা সেভ হোম আবাসিক হোটেল, ম্যান্ডারিন, ইন্দুবালা ও ভিআইপি হোটেলের মতো বেশ কিছু মানসম্মত আবাসিক হোটেল রয়েছে। কক্ষের ধরন ভেদে প্রতি রাত থাকতে খরচ পড়বে প্রায় ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। এবারের ঈদের ছুটিতে অবসর সময় কাটানোর জন্য ঐতিহ্যবাহী জেলা নাটোর হতে পারে একটি চমৎকার গন্তব্য। পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের ছুটিতে একদিনের ভ্রমণের জন্যও নাটোর হতে পারে দারুণ একটি জায়গা।

আশিকুর রহমান/আরকে

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

ঈদের ছুটিভ্রমণ

ফলো করুন

MessengerWhatsAppGoogle News

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

ঈদে বাড়ি যাওয়ার পথে মাদ্রাসাছাত্র নিহত

ঈদে বাড়ি যাওয়ার পথে মাদ্রাসাছাত্র নিহত

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বান্দরবানে হোটেল-রিসোর্ট শতভাগ বুকিং

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বান্দরবানে হোটেল-রিসোর্ট শতভাগ বুকিং

সব সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে ঈদ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সব সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে ঈদ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করতে ঘুরে আসুন নরসিংদীর আকর্ষণীয় দুই স্পটে

ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করতে ঘুরে আসুন নরসিংদীর আকর্ষণীয় দুই স্পটে