ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করতে ঘুরে আসুন নরসিংদীর আকর্ষণীয় দুই স্পটে

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নরসিংদীতে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। ঈদের নামাজ, কোলাকুলি আর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে দাওয়াতের পাশাপাশি অনেকেই পরিকল্পনা করেন পরিবার-পরিজনকে নিয়ে একটু ঘুরে আসার। দীর্ঘ ছুটিতে স্বল্প দূরত্বে, কম খরচে এবং নিরাপদ পরিবেশে কোথায় যাওয়া যায় এমন ভাবনা থেকেই অনেকে বেছে নেন নরসিংদীর জনপ্রিয় দুটি বিনোদনকেন্দ্র।
বিজ্ঞাপন
জেলার অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক বিনোদন স্পট ড্রিম হলিডে পার্ক এবং শহরের অদূরে প্রকৃতিনির্ভর অবকাশযাপনের স্থান নাগরিয়াকান্দি ব্রিজ এই দুই জায়গাতেই ঈদ উপলক্ষে বাড়তি দর্শনার্থীর সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ড্রিম হলিডে পার্কে ঈদের প্রস্তুতি
সদর উপজেলার পাঁচদোনা এলাকায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশেই প্রায় ৬০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে ড্রিম হলিডে পার্ক। জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে এটি এখন দেশের অন্যতম আলোচিত বিনোদনকেন্দ্র। পরিবার, বন্ধু, শিক্ষা সফর কিংবা কর্পোরেট আয়োজন সব ক্ষেত্রেই এটি হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় গন্তব্য।
বিজ্ঞাপন
ঈদ উপলক্ষে পার্কের রাইডগুলো সংস্কার, রং-তুলির কাজ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে পার্কটি। জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ৩৫০ টাকা, যার মধ্যে সাফারি পার্কে প্রবেশও অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন রাইডে চড়তে আলাদা টিকিট কাটতে হয়, যার মূল্য ৭০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে।

পার্কের প্রধান আকর্ষণগুলো হলো রোলার কোস্টার, জেড ফাইটার, স্পেসশিপ, বুলেট ট্রেন, এয়ার বাইসাইকেল ও বুল রাইডের মতো রোমাঞ্চকর আয়োজন। শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা কিডস জোন, যেখানে নিরাপদ পরিবেশে তারা খেলাধুলা করতে পারে।
গরমের দিনে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে ওয়াটার ওয়ার্ল্ড। দেশের অন্যতম বড় ওয়েভ পুল, বিভিন্ন ওয়াটার স্লাইড ও শিশুদের পানির খেলার আলাদা ব্যবস্থা দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দেয়। নিরাপত্তার জন্য প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড ও সার্বক্ষণিক তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া পার্কের ভেতরে রয়েছে সাফারি পার্ক, যেখানে বিভিন্ন প্রাণী ও সবুজ পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। কৃত্রিম পাহাড়, লেক, অপূর্ব ফুলের বাগান ও ফটোস্পট পার্কটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। খাবারের জন্য রয়েছে মানসম্মত রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড কর্নার। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে এসি কটেজ ও বাংলোয় থাকার সুবিধাও।
পার্ক কর্তৃপক্ষের ধারণা, ঈদের দিন থেকে শুরু করে পুরো ছুটিজুড়ে কয়েক লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে।

নাগরিয়াকান্দি ব্রিজ
নরসিংদী জেলা শহরের অদূরে দড়ি নবীপুর এলাকায় অবস্থিত নাগরিয়াকান্দি ব্রিজ এখন স্থানীয় তরুণ-তরুণী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় এক বিনোদন স্পটে পরিণত হয়েছে। জেলা শহর থেকে মাত্র আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে হওয়ায় অটো, মিশুক কিংবা মোটরসাইকেলে খুব সহজেই পৌঁছানো যায় এখানে। স্বল্প দূরত্ব ও মনোরম পরিবেশের কারণে বিকেলবেলা অনেকেই পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসেন এই ব্রিজ এলাকায়।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে এখানে। প্রবেশ টিকিট ৩০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে নদীর বিস্তৃত জলরাশি, শীতল বাতাস আর সূর্যাস্তের লাল আভা উপভোগ করতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। বিশেষ করে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সময় পুরো এলাকাজুড়ে এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়।

ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট ছোট পার্ক, বাগান ও বসার স্থান, যেখানে পরিবার নিয়ে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। নদীর পাড়ের খোলা পরিবেশ, হালকা বাতাস এবং প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য এই জায়গাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্যও এটি এখন জনপ্রিয় লোকেশন হয়ে উঠেছে; অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতি ধরে রাখতে এখানে ছবি তুলতে ভিড় করেন।
স্থানীয়দের ধারণা, আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন লাখো মানুষের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়তি সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে জানা গেছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হবে বিশেষ ব্যবস্থা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং শিশুদের প্রতি বাড়তি নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করলে সময় সাশ্রয় হবে বলেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, স্বল্প দূরত্বে প্রকৃতির ছোঁয়া উপভোগ করতে চাইলে নাগরিয়াকান্দি ব্রিজ হতে পারে একটি চমৎকার গন্তব্য। ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কিছুটা আনন্দঘন সময় কাটাতে ঘুরে আসা যেতে পারে নরসিংদীর এই জনপ্রিয় স্পটে।
আরকে