আদালতে আসামির ভাইকে পিটুনি, একজনের কারাদণ্ড

যশোরের আলোচিত প্রতারক মাহমুদা জামানের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এদিকে রিমান্ড শুনানির সময় অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বারান্দায় মাহমুদার ভাই শাহিন হোসেনকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হলে তাদের মধ্যে একজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দণ্ডপ্রাপ্ত মিরাজ হোসেন ইমরান যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার হেদায়েত হোসেনের ছেলে।
সদর উপজেলার বারীনগর-বানিয়ালি গ্রামের আব্দুস সোবহানের দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, আসামি মাহমুদা জামান সদর উপজেলার বসুন্দিয়া মোড় এলাকার মৃত ডা. মনসুর আলীর মেয়ে। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোটা অংকের লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। লোনের বিপরীতে শতকরা দুই ভাগ লভ্যাংশ দিতে হবে এবং ১০ থেকে ১২ বছর পর লোন পরিশোধ করতে হবে এমন শর্তে মানুষকে রাজি করান তিনি।
এ প্রলোভনে বিশ্বাস করে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত যশোর শহরের চৌরাস্তার রিচম্যান শোরুমে বসে ৩২ জনের কাছ থেকে মোট ৭০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন মাহমুদা। প্রত্যেককে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, ব্যাংক হিসাব নম্বর এবং তিন থেকে চারটি করে ফাঁকা চেক নেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার এক মাসের মধ্যে লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও পরে তিনি আর তা দিতে পারেননি। টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি কারো ফোন রিসিভ করতেন না এবং নানা অজুহাত দেখাতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত ৭ মার্চ সকালে যশোর শহরের দড়াটানায় ‘খেলাঘর’ নামের একটি দোকানের সামনে মাহমুদাকে পেয়ে ভুক্তভোগীরা ৭০ লাখ টাকা ফেরত চান। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় উপস্থিত লোকজন জানতে পারেন যে শত শত মানুষের কাছ থেকে তিনি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পরে মাহমুদা ও তার ছেলে তন্ময় জামান মাহিমকে থানায় নিয়ে গিয়ে মামলা করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে সোমবার বিচারক তাকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে মাহমুদাকে আদালতে দেখতে তার ভাই শাহিন হোসেন আদালতে এলে দুপুর ১২টার দিকে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বারান্দায় তাকে দেখে ভুক্তভোগী মিরাজ হোসেন ইমরান, জিন্নাতুল হাসান ও হিরাসহ কয়েকজন মারধর শুরু করেন। লোকজনের চিৎকারে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরে তিনজনকে আটক করে আদালতের হাজতে রাখা হয়।
বিজ্ঞাপন
পরে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম আটক মিরাজ হোসেন ইমরানকে দণ্ডবিধি ১৬০ ধারায় ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। অপর দুইজন জিন্নাতুল হাসান ও হিরাকে মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়। আহত শাহিন হোসেনকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রেজওয়ান বাপ্পী/এসএইচএ