ট্রাইব্যুনালে আনা হলো সাবেক এমপি ফজলে করিমকে

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাকে আনা হয়। এদিন এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এ মামলা ঘিরে এরই মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সম্প্রতি পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার। জামিনের বিনিময়ে ফজলে করিমের পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সরাসরি ঘুষ চাওয়ার তার কথপোকথনের একাধিক ফোনালাপ ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এমন অভিযোগ নজরে আসতেই গত ১০ মার্চ পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
বিজ্ঞাপন
এর আগে, ১২ জানুয়ারি ফজলে করিমকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। ওই দিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আট সপ্তাহ সময় চান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
একই দিন ফজলে করিমের হয়ে শুনানি করেন আইনজীবী রিজওয়ানা ইউসুফ। ওই দিন নিজের সঙ্গে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে জড়িয়ে সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ আনেন তিনি।
এ মামলায় ফজলে করিমসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। অন্যরা হলেন- চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সাবেক কমিশনার সাইফুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম ও মো. ফিরোজ। তাদেরও আজ আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল ফজলে করিমের জামিন আবেদন করেন আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম। তবে তার জামিন মেলেনি। ফজলে করিমকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে একই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি কারাগারে পাঠান আদালত।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণ হারান কলেজছাত্র ওয়াসিম আকরাম। একই বছরের ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন তার মা জোছনা বেগম। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। তবে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ১১ জন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা হয়। এতে ফজলে করিমসহ বেশ কয়েকজন আসামি হিসেবে রয়েছেন।
এমআরআর/এমএসএ