আড়িয়াল খাঁ নদে গোসল করতে গিয়ে শিক্ষার্থী নিখোঁজ, একদিন পর ভেসে উঠল মরদেহ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আড়িয়াল খাঁ নদে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিক্ষার্থী ইসমাইল মুন্সী (১৭) নিখোঁজ হয় গত রোববার (১৫ মার্চ)। এর পরদিন সোমবার (১৬ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এলাকাবাসী জানায়, গত রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার নাছিরাবাদ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দুয়াইর গ্রামের দরগাহ বাজার সংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদে গোসল করতে গিয়ে ইসমাইল মুন্সী (১৭) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ ইসমাইল দুয়াইর গ্রামের আসাদ মুন্সীর ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে ইসমাইল মুন্সী আড়িয়াল খাঁ নদীতে ফুটবল নিয়ে গোসল করতে যায়। নিজেই ফুটবল নদীর ভেতরে মারছিল, আবার সাঁতার দিয়ে ফুটবল আনছিল। কয়েকবার এরকম করার পর একপর্যায়ে ফুটবল আনতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায়। এ সময় বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার দেয়। নদীতে থাকা কয়েকজন শিশু এ সময় চিৎকার দেয়। এরপর নদীর আশপাশে থাকা লোকজন নদীতে নেমে উদ্ধার করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
ডুবে যাওয়ার পর এলাকাবাসী তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর রবিবার বিকেলে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিয়ে ব্যর্থ হয়। খবর পেয়ে ফরিদপুর থেকে ডুবুরি দল এসে রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিক থেকে উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করেন। তারা দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
বিজ্ঞাপন
নাছিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল হক হাওলাদার বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চর দুয়াইর গ্রামের আমিনুর মাতুব্বর নামের এক ব্যক্তি দরগাহ বাজারের পাশেই নদীতে জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। এ সময় তিনি একটি লাশ নদীর পানিতে ভাসতে দেখেন। তার চিৎকারে বাজারের কিছু লোক এগিয়ে গিয়ে দেখেন ইসমাইল মুন্সীর লাশ পানিতে ভাসছে। পরে এলাকাবাসী লাশটি উদ্ধার করে। নদের যে জায়গায় ইসমাইল পানিতে ডুবে গিয়েছিল, সেখান থেকে প্রায় ১শ ফুট উত্তরে দরগাহ বাজার খেয়াঘাট এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।
জহির হোসেন/আরকে