ঈদের ছুটিতে লাখো পর্যটকের অপেক্ষায় কুয়াকাটা

ঈদের লম্বা ছুটিকে ঘিরে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা এখন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর হওয়ার অপেক্ষায়। লক্ষাধিক পর্যটকের আগমনকে সামনে রেখে পর্যটক বরণে প্রস্তুত সাগরকন্যা খ্যাত এই সমুদ্র সৈকত। ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, সৈকত এলাকা ও বিভিন্ন পর্যটন স্পটে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। শুধু আবাসন খাতই নয়, পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৬টি পেশার ব্যবসায়ীরা নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতিও চোখে পড়ার মতো।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোর প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলের ৩০-৪০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের সেবার মান উন্নয়নে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, স্টাফ প্রশিক্ষণসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের বিনোদনের জন্য সৈকতে রাখা হয়েছে বিচ বাইক, ঘোড়ার গাড়ি, স্পিডবোটসহ নানা আকর্ষণীয় আয়োজন।
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সৈকত এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে সৈকত এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পর্যটননির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, জাল নৌকা সরিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। দোকানপাটের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নান্দনিক সৈকত উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রমজান মাস কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ছিল সুনসান নীরবতা। এবার ঈদের টানা ছুটিতে সেই নীরবতা ভাঙার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কুয়াকাটার আবাসিক প্রতিষ্ঠানে রঙ করা ও ধুয়ে-মুছে পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করা হয়েছে। এ বছরের ঈদ উদযাপন ভালোভাবে কাটবে- এমন প্রত্যাশা পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।
বিজ্ঞাপন
কুয়াকাটা হোটেল প্রেসিডেন্ট পার্কের জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোরশেদ বলেন, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসা বাণিজ্য খারাপ ছিল। তবে ঈদের ছুটিকে ঘিরে ব্যাপক পর্যটকের আশা করছি। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। পর্যটকদের সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও।
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু জানান, ইতোমধ্যে তাদের কাছে একাধিক বুকিং এসেছে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সেবা দিতে তারা প্রস্তুত। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনও নিয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। আমাদের ট্যুর গাইডের প্রায় ৫০ জন সদস্য ইতিমধ্যে পর্যটকদের সেবা দিতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওসার হামিদ জানান, অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট, স্কাউট, স্বেচ্ছাসেবক ও রেসকিউ টিম মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশও জোরদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
বিজ্ঞাপন
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ঈদ পরবর্তী সময়ে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের সকল নিরাপত্তায় সাদা পোশাকেও নজরদারি থাকবে, যাতে পর্যটকরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। এছাড়াও প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে আমাদের একাধিক টিম কাজ করবে।
এসএম আলমাস/আরএআর