ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করতে ঘুরে আসুন জামালপুরের সেরা দর্শনীয় স্থান

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে বিনোদনপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠতে যাচ্ছে জামালপুরের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাতে জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে এবারও পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা জামালপুর জেলায় রয়েছে বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। ঈদের ছুটিতে এসব স্থানে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকেও ভ্রমণপিপাসু মানুষ ছুটে আসেন। যমুনা নদীর তীর থেকে শুরু করে গারো পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত এসব স্থান প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলার লাউচাপড়ায় অবস্থিত ক্ষণিকা পিকনিক স্পট বর্তমানে পারিবারিক ভ্রমণের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। পাহাড়ঘেরা সবুজ প্রকৃতি, নিরিবিলি পরিবেশ এবং মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য ভ্রমণপিপাসুদের কাছে স্থানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি এখানে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মসজিদ-এ-নুর পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। ঈদের ছুটিতে এখানে হাজারো দর্শনার্থীর সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ঐতিহাসিক নৌ টার্মিনাল এলাকা এবং প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ, যা স্থানীয়দের কাছে গায়েবি মসজিদ নামে পরিচিত। ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে স্থানটিও দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
বিজ্ঞাপন

এছাড়া মেলান্দহ উপজেলার ঐতিহাসিক গান্ধী আশ্রম দর্শনার্থীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। দেশের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই আশ্রমে প্রতিবছরই অসংখ্য মানুষ ঘুরতে আসেন। একই সঙ্গে আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে ভক্তরা ভিড় করেন হযরত শাহ কামাল (র.)-এর মাজারে।
শহরকেন্দ্রিক বিনোদনের জন্য জামালপুর সদরের লুইস ভিলেজ রিসোর্ট অ্যান্ড পার্ক বর্তমানে অন্যতম আকর্ষণ। আধুনিক বিনোদন রাইড, কৃত্রিম লেক, সবুজ পরিবেশ এবং নান্দনিক সাজসজ্জার কারণে এটি শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী দর্শনার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঈদের ছুটিতে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনা গার্ডেন সিটি এবং যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য অনেকের পছন্দের স্থান। নদীর পাড়ের মনোরম দৃশ্য ও খোলা পরিবেশ দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞাপন

লুইস ভিলেজ রিসোর্ট অ্যান্ড পার্কের স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান লুইস বলেন, প্রতিটি ঈদে জামালপুরসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর পর্যটক আমাদের এখানে ঘুরতে আসেন। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এবারও আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আশা করছি, এবারও জামালপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে কয়েক হাজার পর্যটকের আগমন ঘটবে।
লাউচাপড়া এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য জয় দাঙ্গু বলেন, সারাবছর তেমন পর্যটক না এলেও ঈদ ও শীতের মৌসুমে এখানে প্রচুর মানুষের আগমন ঘটে। তখন আমাদের ভালো ব্যবসা হয়। আসন্ন ঈদকে ঘিরে আমরাও প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি, এবারও পর্যটকদের আগমনে আমাদের ভালো ব্যবসা হবে।
মুক্তি সংগ্রাম যাদুঘর ও গান্ধী আশ্রমের বোর্ড অব ট্রাস্টি হিল্লোল সরকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার পাশাপাশি গ্রামীণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর ঈদের সময় এখানে জ্ঞানান্বেষী ও দর্শনার্থীদের ভিড় জমে। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে আমরা পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।
এসএইচএ