কম খরচে পারফেক্ট ঈদ ট্যুর—গাজীপুরের ৫ স্পটেই মিলবে সব আনন্দ

ঈদের ছুটি মানেই একটু মুক্তির স্বাদ, প্রিয়জনদের সঙ্গে নির্ভেজাল আনন্দ আর শহরের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক দূরে কোথাও ঘুরে আসার পরিকল্পনা। কিন্তু সময় স্বল্পতা বা দীর্ঘ ভ্রমণের ঝামেলায় অনেকেই দূরে যেতে চান না। তাদের জন্যই ঢাকার একদম কাছেই গাজীপুর হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।
বিজ্ঞাপন
সবুজ বনভূমি, বন্যপ্রাণীর রাজ্য, নদীর পাড়ের শান্ত পরিবেশ আর ইতিহাস-ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় ভরপুর এই জেলাটি একদিনের ছোট্ট ভ্রমণেই এনে দিতে পারে পূর্ণতার অনুভূতি। তাই এবারের ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে খুব সহজেই ঘুরে আসতে পারেন গাজীপুরের মনোমুগ্ধকর কয়েকটি দর্শনীয় স্থান।
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে যারা আসবেন তাদের প্রথম দর্শনীয় স্থান হতে পারে ভাওয়াল রাজের পরগণা।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান
বিজ্ঞাপন

ঢাকা থেকে প্রথমে আসতে হবে চান্দনা চৌরাস্তা। সেখান থেকে ময়মনসিংহমুখী সড়ক ধরে মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিটের দূরত্বে সড়কের পাশেই ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের প্রবেশ পথ। অপরূপ বৃক্ষ রাজ্য ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান অবস্থিত। ভাওয়াল বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গজারি। প্রাণীবৈচিত্র্যের দিক দিয়েও এই উদ্যান অনন্য। এখানে একসময় বাঘ, কালো চিতা, চিতাবাঘ, মেছোবাঘ, ময়ূর ও মায়া হরিণের দেখা মিলত। সময়ের পরিক্রমায় সেসব এখন আর তেমন নেই। তবে খেঁকশিয়াল, বাগডাশ, বেজি, কাঠবিড়ালি, গুইসাপসহ কয়েক প্রজাতির সাপের দেখা মেলে এখনও। এখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট। রয়েছে ১৩টি কটেজ ও ছয়টি রেস্টহাউস। উদ্যানে প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ১০ টাকা। গাড়ি নিয়ে আসলে আকার ভেদে মূল্য দিতে হয়।
গাজীপুর সাফারি পার্ক

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান থেকে থেকে বের হয়ে ১৫ মিনিটের পথ ধরে চলে যেতে পারেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় গাজীপুর সাফারি পার্কে। প্রথমে ঢাকা- ময়মনসিংহ সড়কের বাঘের বাজার আসবেন, খুব বেশি প্রয়োজন হলে গুগোল ম্যাপের সাহায্য নিতে পারেন। প্রায় ৩ হাজার ৬৯০ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা সাফারি পার্কে রয়েছে ছোট ছোট টিলা ও শালবন। থাইল্যান্ডের সাফারি ওয়ার্ল্ডের অনুকরণে ২০১৩ সালে এটি গড়ে তোলা হয়। চারপাশে রয়েছে উন্মুক্ত বাঘ, সিংহ, জিরাফ, বন্য হরিণ, জেব্রাসহ নানা প্রাণীর বিচরণ। সাফারি পার্কের সাধারণ প্রবেশ টিকিট মূল্য ৫০ টাকা। ভেতরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে টিকিট ব্যবস্থা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নূহাশ পল্লী

এরপর সাফারি পার্কের খুব কাছেই পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত অন্যতম কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের নুহাশ পল্লীতে ঢুঁ মারতে পারেন জনপ্রতি ২০০ টাকা টিকিটে। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৮৭ সালে প্রায় ২২ বিঘা জমির ওপর নিজের ছেলে নুহাশের নামে এটি গড়ে তোলেন। ২০১২ সালে মৃত্যুর পর এখানেই শায়িত আছেন গল্পের এই জাদুকর। নুহাশ পল্লী এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন খোলা থাকে। ভেতরে ঢুকতে ১২ বছরের ওপরে জনপ্রতি টিকিট লাগবে ২০০ টাকা। তবে হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে প্রবেশমূল্য লাগবে না। কবর জিয়ারতের জন্য মূল ফটকের বাইরে বাঁ দিকে আলাদা ফটক রয়েছে। যে কেউ সেখানে গিয়ে কবর জিয়ারত করতে পারবেন।
এরপর সেখান থেকে ভাওয়াল বনের সবুজ পথ ধরে ৪০ মিনিটের দূরত্বে চলে যাবেন সৌন্দর্যে ঘেরা কালিয়াকৈর উপজেলায়। সেখানে কিছু দর্শনীয় স্থানে বিকেলটা কাটাতে পারেন।
শ্রীফলতলী জমিদার বাড়ি

ঢাকা–টাঙ্গাইল সড়কের পাশে শ্রিফলতলী জমিদার বাড়ি। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের শ্রীফলতলী জমিদার বাড়ি ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে তিনটি জমিদার বাড়ি রয়েছে। প্রথম দেখাতেই বাড়িগুলো ভালো লেগে যাবে। এছাড়াও রয়েছে শাঁন বাধানো পুকুর ঘাট। এই জমিদার বাড়িতে প্রবেশে কোনো প্রকার টিকিট প্রয়োজন হয় না। ভেতরে প্রবেশের পর নানা স্থাপত্যশৈলী আর রাজাদের ব্যবহারের পুরোনো জিনিসপত্র দেখতে পাবেন এখানে। ইচ্ছে হলে শ্রিফলতলী নিয়ে লিখা একটি বই ১৫০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে নিতে পারেন সেখান থেকেই।
তুরাগ পাড়ের গ্রাম বাঁশতলী

জমিদার বাড়ি ঘুরে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই চলে যেতে পারেন গ্রামীণ জনাপদে ঘেরা তুরাগ নদীর তীরে অবস্থিত গ্রাম বাঁশতলী। যেখানে বিকেলের শেষ মুহূর্ত আপানকে সারাদিনের ভ্রমণ ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতে পারে। গাজীপুরের অন্যতম মকশ বিলের অবস্থান এখানে, পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আঁকাবাঁকা তুরাগ নদ। এ এলাকাগুলোতে সারা বছরই প্রচুর দর্শনার্থী থাকে। ঈদ মৌসুমে ব্যাপক জনসমাগম হয়। এখানে পেয়ে যাবেন বাহারি সব খাবার। তবে বলে রাখা ভালো, এসব এলাকায় বর্ষাকালে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয় হয়ে উঠে। এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশে পানির উপরে রয়েছে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট, কাঠ বাঁশ ও ছনের তৈরি এসব রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায় বাহারি খাবার। এখানে পাবেন গরুর খাঁটি দুধে তৈরি অনন্য স্বাদের দই মাঠা।
বিকেলের ঠান্ডা হাওয়ায় এখানে বসে দেখতে পারবেন বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলতান। সবশেষ চলে যেতে পারেন কালিয়াকৈর বাজার বাস স্টেশন এলাকায় বিখ্যাত পিয়াজুর স্বাদ নিতে। মাত্র ২০০ টাকা কেজি দরে পিয়াজু কিনে নিজেও খেতে পারেন, পরিবারের জন্যও নিয়ে যেতে পারেন। আর সেখান থেকেই অতি সহজে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে নিরাপদে চলে যেতে পারেন নিজ ঠিকানায়।
এসএইচএ