‘খাল খননে ৩৫ ভাগ কাজ করবে শ্রমিকরা, বাকি ৬৫ ভাগ হবে মেশিনে’

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, বাংলাদেশকে খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণ করাসহ খাদ্য রপ্তানি করতে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল-বিল, জলাশয় খনন, পুনঃখনন শুরু হয়েছে। এতে করে উত্তরাঞ্চলের নদী-খালগুলো জেগে উঠছে। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলকে শস্য ভাণ্ডার হিসেবে আমরা ফিরে পাবো।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৮ মার্চ) দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের রমাকান্ত খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমাদের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। আগে যেখানে টিউবওয়েলে ২০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যেত, সেখানে এখন ৪০ ফুটেও পানি পাওয়া যায় না। রমাকান্ত খাল খননের মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে, কয়েক হাজার কৃষক সেচ সুবিধা পাবে। এছাড়া খালের দু’পাশে বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে বনায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের উত্তরাঞ্চলে যে পরিমাণ গাছপালা থাকার দরকার সেই পরিমাণ গাছপালা নেই। মাত্র ৭ ভাগ রয়েছে, যা দক্ষিণাঞ্চলে রয়েছে ২৫ থেকে ২৮ ভাগ। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন করা হবে। তাই খাল খননের পাশাপাশি আমরা সবুজায়ন করবো। এছাড়া খনন করা খালে মাছ চাষ, হাঁস চাষ করে গ্রামের মানুষেরা স্বনির্ভর হতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এসব খাল খননে স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে করানো হবে। এর মধ্যে খাল খনন কাজের শতকরা ৩৫ ভাগ শ্রমিকরা করবেন ও বাকি ৬৫ ভাগ করা হবে মেশিনের মাধ্যমে। এতে করে গ্রামের মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। এক্ষেত্রে যদি বাজেট বৃদ্ধি করতে হয়, তাহলে সরকার তাই করবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সবগুলো বাস্তবায়ন করছেন। এর মধ্যে ১৩২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা করে কৃষি ঋণ মওকুফ করা, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২৮ হাজার নারীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ইমাম, মোয়াজ্জিন, পুরোহিতদের উৎসব ভাতা ও মাসিক ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বগ্রহণের এক মাসের মাথায় সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তিনি কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। আগামী দিনে সকলের সহযোগিতায় পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদশে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তিনি। বাংলাদেশকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে আমরা প্রতিষ্ঠা করবো।
বিজ্ঞাপন
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. মাহফুজ-উন-নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন, রংপুর মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুসহ অন্যরা।
প্রসঙ্গ, রংপুর গঙ্গাচড়া উপজেলার রমাকান্ত খালের ৫ দশমিক ৪০ কিলোমিটার পুনঃখননে প্রতি বছর ১০ হাজার মেট্রিক টন ধান বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে, ১৫০ হেক্টর জমিতে ভু-উপরিস্থ পানি দ্বারা সম্পূরক সেচ দেওয়া যাবে, প্রকল্প এলাকায় মৎস, জলজ সম্পদ বৃদ্ধি পাবে এবং খনন কাজে নিয়োজিত ১ হাজার ৩৪৪ জন শ্রমিকের কাজের ব্যবস্থা হবে। ২১ লাখ ৮ হাজার ৮শ টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া রমাকান্ত খান পুনঃখনন কাজ আগামী ৩০ জুন শেষ হবে।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এমএএস