ঈদের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত রূপের রানী রাঙামাটি

রূপের রানী খ্যাত রাঙামাটির উঁচুনিচু পাহাড়, পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে বিস্তৃত কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি ও প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রতি বছরই ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের ভিড় জমে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে।
আসন্ন ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে সামনে রেখে পর্যটকদের বরণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন পর্যটক সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে জেলার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাকের টেক্সটাইল মার্কেটেও তোলা হয়েছে নতুন সব পোশাক।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরের অন্যান্য সময়ও পর্যটকদের আগমন থাকলেও ঈদের ছুটিতে তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবারের দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি হিসেবে পরিচিত ঝুলন্ত সেতু নতুন রঙে সজ্জিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স, পলওয়েল পার্ক ও আরণ্যক হলিডে রিসোর্টেও সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রমজান মাসের কারণে পর্যটক আগমন কম ছিল। তবে ঈদের ছুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে বুকিং বেড়েছে। অনেক হোটেলের অধিকাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে, ঈদের আগেই শতভাগ পূর্ণ হওয়ার আশা করছেন তিনি।
পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং কক্ষ বুকিং আশানুরূপ হারে বাড়ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গিয়েছে। আমরা আশা করছি, এ বছর রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটবে এবং আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত রেভিনিউ অর্জন করতে পারব।
পলওয়েল পার্কের সহকারী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে পার্কে বিভিন্ন সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াতে নতুন একটি লাভ পয়েন স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে টেক্সটাইল মার্কেটের ব্যবসায়ী মিশু মারমা জানান, ঈদকে সামনে রেখে পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী পোশাকসহ নতুন নতুন পণ্য আনা হয়েছে। পর্যটক বাড়লে বিক্রিও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ঈদ ও পরবর্তী সময়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল এবং কাপ্তাই হ্রদে নৌ পেট্রোলিং চালানো হবে। পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।
এসএইচএ