ঈদের ছুটিতে ভ্রমণের হাতছানি, ঘুরে আসুন গাইবান্ধার হট ট্রাভেল স্পটে

ঈদের ছুটি মানেই পরিবার, প্রিয়জন আর একটু নিরিবিলি কোথাও ঘুরে আসার পরিকল্পনা। কিন্তু চেনা গন্তব্যের ভিড় আর কোলাহল এড়িয়ে যদি খুঁজে নিতে চান শান্ত, সবুজ আর বৈচিত্র্যময় কোনো জায়গা তাহলে উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণ ঠিকানা। নদী, চর, সবুজ প্রান্তর আর নিসর্গের অপার সৌন্দর্যের সঙ্গে এখানে মিলেছে ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব আর আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রের অনন্য সমন্বয়।
বিজ্ঞাপন
এই ঈদে তাই ভিন্ন কিছু করতে চাইলে, চেনা পথ ছেড়ে একটু নতুনের খোঁজে বেরিয়ে পড়ুন গাইবান্ধার পথে। এখানে রয়েছে ঐতিহ্য ঘেরা, আকর্ষণীয়, দর্শনপ্রিয় ও আধুনিক স্পট। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পৌরপার্ক, ঘাঘট লেক, ঘাঘট মিনি পার্ক, ভেরামা ব্রিজ, মাটির নিচে ফ্রেন্ড সেন্টার, এসকেএস ইন, এতিহ্যের বালাসীঘাট, পুরাতন ফুলছড়ির ক্রসবাধ, তিস্তা ব্রিজ, ড্রিমল্যান্ড পার্ক, আলী বাবা থিমপার্ক।
পৌর পার্ক : জেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গাইবান্ধা পৌর পার্ক এখন শহরবাসীর অন্যতম প্রিয় অবসরযাপন কেন্দ্র। একটি বৃহৎ পুকুরকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই দৃষ্টিনন্দন পার্কটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিনোদনের সমন্বয়ে সব বয়সী মানুষের জন্য তৈরি করেছে স্বস্তির এক পরিসর। পার্কের মাঝখানে রয়েছে শান বাঁধানো ঘাটসহ বিশাল পুকুর। পুকুরের চারপাশে পাকা হাঁটার পথ।

পুকুরপাড় ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়েছে ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে ও দোলনা। পরিবার নিয়ে এলে ছোটদের আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে পুরো পার্ক এলাকা। পার্কের ভেতরে হাতি, ঘোড়া, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণীর দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া রয়েছে পত্রিকা ফলক, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও একটি স্মৃতিসৌধ—যা পার্কটিকে শুধু বিনোদন নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্র হিসেবেও পরিচিত করেছে।
শহরের ব্যস্ততম ডিবি রোড ঘেঁষে অবস্থিত এই পার্ক বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে। ঈদের ছুটি কিংবা সাপ্তাহিক অবসর— যেকোনো সময়েই পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনদের সঙ্গে নির্মল সময় কাটানোর জন্য হৃদয়ের খুব কাছের এক সবুজ আশ্রয়।
ঘাঘট লেক : গাইবান্ধার এক সময়ের পরিত্যক্ত ঘাঘট নদী এখন দৃষ্টিনন্দন বিনোদন পার্ক। ছয় কিলোমিটার এ লেকের ডেভিট কোম্পানিপাড়া ও পূর্বাপাড়া সংলগ্ন অত্যাধুনিক দৃষ্টিনন্দন দুটি সেতু এর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে বহুগুণ। এই লেক কিছুটা ঢাকার হাতির ঝিলের আদলে তৈরি করায় স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছে "গরীবের হাতির ঝিল"।
বিজ্ঞাপন
সন্ধ্যা নামতেই সংক্রিয়ভাবে জ্বলে ওঠে সেতুর বাতি। দিনের আলোর থেকেও দৃষ্টিনন্দন এই ব্রিজের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় রাতের বেলা।
ঘাঘট শিশু পার্ক : শহরের কিছুটা অদূরে নতুন ব্রিজ সংলগ্ন ঘাঘট পাড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ঘাঘট শিশু পার্ক। নদীর ভিতরেই গড়ে তোলা এই পার্কের ভিতরে টাইলসের সড়ক, বসার পাকা স্থান রয়েছে। শিশুদের জন্য রয়েছে দোলনাসহ খেলার রাইড। পরিবারকেন্দ্রিক এই পার্কে নদীর মুক্ত বাতাসে কোলাহলমুক্ত পরিবেশ উপভোগ করেন বিনোদনপ্রেমীরা। এর পশ্চিম দিকে নির্মাণ করা মুক্ত মঞ্চে বিভিন্ন সময়ে বসে গানের আসর। অনুষ্ঠিত হয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান। শহরের জেলখানা মোড় থেকে ১৫ টাকা রিকশা এবং অটোরিকশায় ১০ টাকায় যাওয়া যায় এই শিশুপার্কে। সকলের জন্য এটি উম্মুক্ত।
ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার : শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি—মাটির নিচে নির্মিত এক অপরূপ স্থাপত্য গাইবান্ধা শহর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে, গাইবান্ধা–বালাসী সড়কের পাশে মদনের পাড়ায় দাঁড়িয়ে আছে নীরবে। উপর থেকে দেখলে মনে হবে সবুজ ঘাসে ঢাকা কোনো বিস্তীর্ণ চারণভূমি। কিন্তু সেই সবুজের আড়ালেই লুকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্থাপত্য নিদর্শন—ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার।
আট বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই সেন্টারটি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়, এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একসঙ্গে ২০০ জনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ২৪টি আবাসিক কক্ষে অফিস, গ্রন্থাগার, এডমিন রুম, রিসেপশন উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা, কেরাম, দাবা ও ব্যাডমিন্টন খেলার সুবিধা, আধুনিক ইন্টারনেট ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নিজস্ব জেনারেটর। স্থাপনাটি সম্পূর্ণ সিসিটিভি ও প্রাচীর-তারকাঁটা দ্বারা সুরক্ষিত ।
যেভাবে যাবেন : শহরের পুরাতান বাজার এলাকা থেকে ৩ কিলোমিটার দূরত্বের এই সেন্টারটিতে ১০ টাকা ভাড়ায় খুব সহজে যাওয়া যায়। এর সৌন্দর্য বিনামূল্যে উপভোগ করা যায় সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত।
বালাসীঘাট : বর্ষায় থৈ থৈ পানিতে ডুবে থাকে আর শীতে জেগে ওঠে বিস্তীর্ণ চর। দুই ঋতুতে দুই রূপে সেজে ওঠা গাইবান্ধার বালাসী ঘাট যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত ক্যানভাস। ঋতু বদলালেই বদলে যায় দৃশ্যপট, কিন্তু সৌন্দর্যের আবেদন থাকে চিরকালীন। নদীর বুকে লালচে সূর্য ডোবার দৃশ্য দেখতে চাইলে এ জায়গার বিকেলগুলো যেন আলাদা এক আবেশ ছড়িয়ে দেয়। এখানে নদী পার হয়ে চাইলে ঘোড়া ভাড়া করে চরভ্রমণ কিংবা নৌকা ভাড়া করে নদীভ্রমণের সুযোগ রয়েছে সেখানে। ঘণ্টাপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় নৌকা ভাড়া নিয়ে উপভোগ করা যায় মুক্ত বাতাস আর ঢেউয়ের সুর।
এছাড়া মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায় নদী পার হয়ে ওপারে চরাঞ্চল। যেখানে রয়েছে ভুট্টা-মরিচ ও বাদামসহ হরেক রকমের সবজি গালিচা। যা দেখে প্রাণ জুরায় ভ্রমণ পিপাসুদের। রয়েছে ৫০ টাকায় ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বেড়ানোর সুযোগ। এপারে গড়ে ওঠা হোটেল গুলোতে সাশ্রয়ী দামে মেলে ব্রহ্মপত্রের বোয়াল, চিংড়ি ও কাজলিসহ হরেক রকম মাছের তরকারী। পাওয়া যায় ভাত-খিচুরি ও মুখরোচক খাবার। উৎসবের দিনগুলো আরো জমজমাট হয়ে ওঠে বালাসীঘাট।
যেভাবে যাবেন : গাইবান্ধা জেলা শহরের পুরাতন বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে জনপ্রতি ভাড়া ১৫ টাকায় সরাসরি সেখানে যাওয়া যায়।
যমুনার ক্রসবাধ : প্রতিবছর ঈদ, পূজা-পার্বণে জেলার ফুলছড়ি হেড কোয়াটার সংলগ্ন যমুনা নদীর "ক্রোস বাঁধ"ই হয়ে ওঠে বিনোদনের এক স্নিগ্ধ স্থান। উৎসবের দিনগুলোতে বা উৎসবকালীন সময়ে পড়ন্ত বিকেলে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-স্বজনসহ বিভিন্ন বয়সের নানা শ্রেণি পেশার হাজারো মানুষের সমাগমে মুখরিত থাকে ফুলছড়ির এই যমুনার পাড়। নদী পাড়ের বিশুদ্ধ বাতাস আর প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য উপভোগ করে ভ্রমণ পিপাসু মানুষগুলো। এটি সমতল থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট উঁচু। দৈর্ঘ্যে প্রায় কোয়াটার কিলোমিটার।
যেভাবে যাবেন : জেলা শহর থেকে ২০ কি.মি. দক্ষিণ-পূর্বে বাধটিতে বড় মসজিদ সংলগ্ন অটোস্ট্যান্ড থেকে ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় যেতে হবে উল্লাবাজার। সেখান থেকে পাঁচ টাকা অটো ভাড়ায় পৌঁছা যাবে ক্রসবাঁধে।
এসকেএস ইন রিসোর্ট : শহর থেকে শুধু ৪ কিলোমিটার কলেজ রোডে মাত্র ১০ টাকা অটোরিকশার ভাড়ায় আপনি পৌঁছে যাবেন গাইবান্ধার সব থেকে অত্যাধুনিক রিসোর্ট এসকেএস ইন-এ। রাধাকৃষ্ণপর গ্রামে প্রায় ২০ একর বিস্তীর্ণ জমিতে বিস্তৃত এসকেএস ইন রিসোর্ট।

এখানে আছে নানা প্রজাতির গাছ, কৃত্রিম লেক, দৃষ্টিনন্দন পুকুর, ঝুলন্ত সেতু, পানির ফোয়ারা সুইমিং পুল, জিম কিডস জোন, উন্মুক্ত মঞ্চ, সেমিনার কক্ষ প্রকৃতির মাঝে এসব সুবিধা একে নিখুঁত “ডে আউট” গন্তব্যে পরিণত করেছে। এখানে দুইটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খাবার পাওয়া যায়।
পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য রয়েছে আদর্শ রুম। রাতযাপনের রয়েছে ডিলাক্স, ওয়াটার ভিলা, গার্ডেন ভিউ ভিলা, লেক ফ্রন্ট ভিলা। এছাড়া রয়েছে ফ্যামিলি স্যুট ও এক্সিকিউটিভ টুইন যার ভাড়া ৯ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। যারা রাতযাপন করবেন তাদের জন্য রয়েছে এসকেএসইনের নিজস্ব শিল্পীদের পরিচালনায় সন্ধ্যাকালীন গানের আসর।
রিসোর্টেও সুইমিং পুলের নীল-স্বচ্ছ পানিতে নেমে বড়রা ৩৫০ টাকায় ও ছোটরা ২৫০ সময় কাটাতে পারবেন একঘণ্টা সময়।
ফোর স্টার মানের এই এসকেএস ইনে প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ২০০ টাকা। সপ্তাহের ৭দিন বেলা ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় কাটানো যায় এখানে।
ড্রিমল্যান্ড পার্ক : শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে পলাশবাড়ী উপজেলা সদরে অবস্থিত ড্রিমল্যান্ড পার্ক স্থানীয়দের কাছে এটি এক পরিচিত ঠিকানা। একটু আলাদা মাত্রা যোগ করেছে ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল এই পার্ক। গাইবান্ধা সদর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণমারী গ্রামে অবস্থিত এই পার্ক যেন বিনোদনের সঙ্গে জ্ঞানেরও এক মিলনমেলা। গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে জনপ্রতি মাত্র ৫০ টাকা ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পৌঁছে যাওয়া যায় এখানে।

পার্কে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এখানে স্থাপন করা ২৫৫ জন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তির ভাস্কর্য। যেন খোলা আকাশের নিচে এক জীবন্ত জ্ঞানভা-ার।
এছাড়া রয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র, পলাশী যুদ্ধের মানচিত্র এবং বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য—যা শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষণীয় ও আকর্ষণীয়। মাত্র ১০ টাকার টিকিট কেটে প্রবেশ করা যায় এই পার্কে।
আলী বাবা থিম পার্ক : গাইবান্ধা শহরের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে একটু দূরে গেলেই মিলবে বিনোদনের আরেকটি চমৎকার স্পট। আলী বাবা থিম পার্ক। তিস্তা নদীর পাড়ে, গাইবান্ধা-রংপুর-কুড়িগ্রামের সংযোগ এলাকায়, সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তরে এই বিনোদন কেন্দ্র এখন দর্শনার্থীদের নতুন আকর্ষণ।
এখানে প্রবেশ পথেই চোখে পড়ে মহান আল্লাহর ৯৯ নাম খচিত নির্মাণাধীন ২০ মিটার উঁচু ভাস্কর্য। দেয়ালজুড়ে রয়েছে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনার নকশা—জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বায়তুল মোকাররম, মসজিদ আল-আকসা, কাবা শরিফ—সহ আরও নানা ঐতিহ্যের প্রতিরূপ। আছে আলাদিনের চেরাগ, কৃত্রিম পাহাড়, পানির ওপর ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা, আগ্নেয়গিরির লাভা দৃশ্য ও প্রাণীর ভাস্কর্য। পিকনিক স্পট ও রিসোর্ট সুবিধাও রয়েছে।

যেভাবে যাবেন: গাইবান্ধা শহরের ব্রিজ রোড থেকে সিএনজি/বাসে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদর (প্রায় ৩০ কিমি, ভাড়া আনুমানিক ১০০ টাকা)। সেখান থেকে অটোরিকশায় ইমামগঞ্জ (৭ কিমি, ভাড়া প্রায় ২০ টাকা)। এরপর বালুচর পথ পেরিয়ে চুক্তিভিত্তিক অটোতে (৪০-৫০ টাকা) পৌঁছানো যায় পার্কে।
হরিপুর তিস্তা ব্রিজ : গাইবান্ধার হরিপুর-চিলমারী সংযোগ সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ১৪৯০ মিটার দীর্ঘ মওলানা ভাসানী সেতু এখন উত্তরাঞ্চলের আকর্ষণীয় একটি ভ্রমণকেন্দ্র। উদ্বোধনের পর থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত থাকছে এই ব্রিজ। সেতুর ওপর দাঁড়ালে চোখে পড়ে তিস্তার বিস্তীর্ণ জলরাশি আর চরাঞ্চলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য। অনেকেই সেতু দর্শনের পাশাপাশি নৌকা ভাড়া করে নদীতে ঘুরে বেড়ায়। সেতুকে ঘিরে ইতোমধ্যে আশপাশে ছোট-বড় হোটেল ও খাবারের দোকান গড়ে উঠতে উঠেছে।

যেভাবে যাবেন : জেলা শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরের গাইবান্ধা বাস স্ট্যান্ড থেকে সরাসরি বাসে করে যাওয়া যায় এখানে। ভাড়া পড়বে আনুমানিক ৬০–৭০ টাকা।
এছাড়া শহরের ব্রিজ রোড থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা নিয়ে ধর্মপুর হয়ে হরিপুর ব্রিজ পর্যন্ত যাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে ভাড়া লাগবে প্রায় ১০০–১২০ টাকা (যানবাহন ও যাত্রীসংখ্যা অনুযায়ী কিছুটা তারতম্য হতে পারে)।
এছাড়াও ঐতিহাসিক নিদর্শনের দিক থেকেও জেলার গুরুত্ব রয়েছে। প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ, পুরোনো মসজিদ ও প্রত্নতাত্তিক স্থাপনাগুলো জেলার অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে রাজাবিরাট প্রসাদ, নলডাঙ্গার জমিদার বাড়ি, বামনডাঙ্গার জমিদার বাড়ি, মীরের বাগানের ঐতিহাসিক শাহ্ সুলতান গাজীর মসজিদ, ভরতখালী কাষ্ঠ মন্দির (কালি মন্দির), ভবানীগঞ্জ পোস্ট অফিস, মহিমাগঞ্জ চিনি কল।

রাজা বিরাট প্রাসাদ : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নে অবস্থিত রাজা বিরাট প্রাসাদ উত্তরাঞ্চলের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন। একসময় এটি ছিল প্রাচীরবেষ্টিত রাজপ্রাসাদ ও জনবসতি; এখন অধিকাংশই মাটির নিচে চাপা পড়ে বড় ঢিবির আকারে টিকে আছে। কাছে গেলে প্রাচীন ইটের গাঁথুনির চিহ্ন চোখে পড়ে।
লোককথা অনুযায়ী, রাজা বিরাটের নামের সঙ্গেই গাইবান্ধা জেলার নামকরণের সম্পর্ক রয়েছে। এখানে বর্তমানে তিনটি সংরক্ষিত ঢিবি রয়েছে এবং আশপাশের বড় পুকুরগুলোতে মাছ চাষ হয়।
যেভাবে যাবেন : গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় ৫০ কিমি দূরে বাসে ৫০ থেকে ৬০ আর সিএনজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এরপর ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ চৌমাথা থেকে গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের কাটামোড় থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমমুখী সড়ক ২৫ থেকে ৩০ টাকায় যাওয়া যায় এখানে।
এসএইচএ