ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা, যানজটের শঙ্কা বাড়াচ্ছে গাইবান্ধার ৩২ কিমি মহাসড়ক

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল- বিশেষ করে ঢাকা থেকে গাইবান্ধা ও রংপুরমুখী মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে। মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এতে করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ফাঁসিতলা থেকে সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবছর ঈদ মৌসুমে এ সড়কটিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। স্থানীয়রা এবং এই পথের চালক-যাত্রীরা বলছেন, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। তারওপর উপজেলার পান্তাপাড়া থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ছয় লেন উন্নয়ন ও উড়াল সড়ক নির্মাণকাজ চলমান থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার শঙ্কা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা এলাকায় একরামুল হক আইডিয়াল কলেজের সামনে একটি মাইক্রোবাস ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ধারণা করা হচ্ছে- ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় মাইক্রোবাস চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের পেছনে ধাক্কা দেন। এতে মাইক্রোবাসের ভেতরে আটকে পড়েন যাত্রীরা। পরে খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও হাইওয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে গুরুতর আহতদের তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতরা হলেন— পীরগঞ্জের শম্পা খাতুন (২০), রায়হান (২৫),মারিয়া খাতুন (২৫) এবং ঘোড়াঘাটের সজীব মিয়া (২৫), দিনাজপুর নবাবগঞ্জের সামিউল ইসলাম, মিঠু মিয়া ও শাকিরা বেগম। জানা গেছে, তারা সবাই ঢাকায় থাকেন। ঈদ উপলক্ষ্যে ভাড়া করা মাইক্রোবাসে বাড়ি ফিরছিলেন।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া একই দিন ভোরে পলাশবাড়ীর ব্রাক মোড় এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী বাসচাপায় নিহত হন। একাধিক গাড়ির চাপায় তার মরদেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং চালক ও যাত্রীরা বলছেন, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে হলে হাইওয়েতে বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধে কঠোর নজরদারি জরুরি। বিশেষ করে দূরপাল্লার চালকদের বিশ্রাম নিশ্চিত করা, প্রবেশমুখে থামিয়ে সতর্ক করা এবং গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এছাড়াও পথচারীদের অসতর্কভাবে রাস্তা পারাপার এবং ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। মহাসড়কে লেন মেনে চলাচল না করা এবং হঠাৎ থামা-চলাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পান্তাপাড়া থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ছয় লেন উন্নয়ন ও উড়াল সড়ক নির্মাণকাজ চলমান থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সড়কের মাঝখানে টিন দিয়ে ঘেরা অংশ, পাশে সরু পথ, নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা এবং ভারি যন্ত্রপাতির চলাচলের কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
গোবিন্দগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদ কর্মী গোলাপ মহন্ত জানান, প্রতিবছর ঈদে গোবিন্দগঞ্জে তীব্র যানজট হয়। তা স্থায়ী হয় ঈদের এক সপ্তাহ পর পর্যন্ত, কখনো কখনো তারও বেশি সময় ধরে। আজ থেকে যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া গোবিন্দগঞ্জ থেকে সাদুল্লাপুর পর্যন্ত দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটে থাকে।
তবে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৫ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এ অংশে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন। এছাড়াও যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ, আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে ১০টি দল কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, হাইওয়েতে যানজট নিরসনে পুলিশ, আনসারসহ ১০টি টিম কাজ করছে। আমরা চেষ্টা করছি সব কিছু নিয়ন্ত্রণে রাখার।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, গাইবান্ধার প্রবেশদ্বার গোবিন্দগঞ্জে যানজট কমাতে উপজেলায় যে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ছয় লেন উন্নয়ন ও উড়াল সড়ক নির্মাণকাজ চলছে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করছে জেলা পুলিশ।
আরএআর