বিজ্ঞাপন

ঈদের আগে সড়কে প্রাণ গেল প্রবাসী মনিরুলের, শোকে স্তব্ধ পরিবার

ঈদের আগে সড়কে প্রাণ গেল প্রবাসী মনিরুলের, শোকে স্তব্ধ পরিবার

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মনিরুল ইসলাম (৩৫) আর ফিরবেন না, দুবাইয়ের ব্যস্ত সড়কে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। দূর প্রবাসে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের লড়াই করতে গিয়ে ঈদের আগে এমন খবরে শোকে স্তব্ধ মনিরুলের পরিবার।  

মনিরুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্ত্রী, দুই কন্যা আর অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই তিনি গত বছর আগস্টে পাড়ি জমান সংযুক্ত আরব আমিরাতে। জীবিকার তাগিদে ফুড ডেলিভারির কাজ নেন তিনি। কিন্তু সেই পথই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ পথচলা।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ডেলিভারির কাজ করতে গিয়ে মোটরসাইকেল চালানোর সময় একটি ট্রেইলারের পেছনে সজোরে ধাক্কা লাগে তার। এতে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

মনিরুলের বাড়ি সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের পলতি সাতবাড়িয়া গ্রামে। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। ২০২০ সালে বিয়ে করেন তিনি। তার দুই মেয়ে— আয়রান (৫) ও আফরান (৩)। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো তার স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা।

স্বজনরা জানান, সংসারের পুরো দায়িত্ব ছিল মনিরুলের কাঁধে। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন দিশেহারা। গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

নিহতে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন শিবলু বলেন, একজন প্রবাসীর এমন করুণ মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দেয় বিদেশে রোজগারের পেছনে লুকিয়ে থাকে অজানা ঝুঁকি আর অদৃশ্য সংগ্রাম। মনিরুলের মতো অসংখ্য প্রবাসী নিজেদের জীবন বাজি রেখে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কখনো কখনো সেই চেষ্টার মূল্য দিতে হয় জীবনের বিনিময়ে। দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে মনিরুলের পরিবার। যেন শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে পারেন তারা। 

সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহসিয়া তাবাসসুম বলেন, মনিরুল ইসলামের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। 

আরএআর