ঝিনাইদহের দুই শিশুর সঙ্গে মায়ের ডাকও স্তব্ধ

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস ও ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২ জন। নিহতদের মধ্যে ঝিনাইদহ জেলার পাঁচজন রয়েছেন, যার মধ্যে মহেশপুর উপজেলার একই পরিবারের তিনজন সদস্যও আছেন।
বিজ্ঞাপন
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের পিন্টু হোসেনের স্ত্রী লাইজু খাতুন (২৭) এবং তার দুই মেয়ে খাদিজা (৫) ও মরিয়ম (৩)। পরিবারটি ঈদ উপলক্ষ্যে মহেশপুর থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশে মামুন পরিবহনের একটি বাসে রওনা হয়েছিল।
এ ছাড়া মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর গ্রামের সোনালি বেগম (৫০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় তার স্বামী ইমামুল ইসলাম (৫৮) ও আয়েশা (৭) নামে এক শিশু আহত হয়েছেন। তারাও নোয়াখালীতে বড় ছেলের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউনিয়নের পানামী গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে জোহাদ হোসেনও একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তিনি ঈদের নামাজ শেষে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ ভোর আনুমানিক ৩টা ১০মিনিটের দিকে পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী ট্রেনের ধাক্কা খায়। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকার পরিবেশ।
বিজ্ঞাপন
সম্রাট হোসেন/এসএইচএ