সমুদ্র দেখার স্বপ্ন ভেঙে গেল সড়কে, মর্গের সামনে স্ত্রী-সন্তানের আহাজারি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত তিনজনের পরিচয় মিলেছে। হতাহতরা ঢাকা থেকে কক্সবাজারে সমুদ্র দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন।
বিজ্ঞাপন
নিহতরা হলেন- ঢাকার বাংলামোটর নিউ ইস্কাটন এলাকার মোক্তাদুর রহমানের ছেলে মো. মোর্শেদ (৪০), ফরিদপুরের বটতলা জাজিরা এলাকার মজিবুর মোড়লের ছেলে সোহাগ মোড়ল (২৬) ও দোয়েল পরিবহনের সুপারভাইজার মো. কাউছার (৩৫)।
এ ঘটনায় মো. রানা (৪০), মো. সোহেলসহ (৩০) অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তারা ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় কাপড়ের ব্যবসায় করতেন।
পুলিশ, নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২১ মার্চ) ভোররাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি ব্রিজের মেরামত কাজ চলছিল। ব্রিজের আগে গতিরোধকে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে পার হচ্ছিল। এ সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী-চালকরা গাড়ি থেকে নেমে কথা কাটাকাটি করলে পেছনে মোটরসাইকেল ও আরও কিছু গাড়ির জট লেগে যায়। তার কিছুক্ষণ পর একই পথে বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস জটলার মধ্যে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে দোয়েল পরিবহনের সুপারভাইজার ও দুই বাসের দুইজন যাত্রী নিহত হন।
বিজ্ঞাপন
নিহত মোর্শেদের বন্ধু সুমন ঢাকা পোস্টকে বলেন, মোর্শেদ রাজধানীর বাংলামোটর ফরহাদ মার্কেটের ব্যবসায়ী ছিলেন। রাতে শ্যামলী পরিবহনের বাসে ঢাকা থেকে তার স্ত্রী, ১৩ ও ৫ বছর বয়সী দুই কন্যা সন্তান এবং বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পথিমধ্যে তাদের বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হলে স্ত্রী-সন্তানদের গাড়িতে রেখে সে বাইরে নেমে আসে। এ সময় বেপরোয়া গতির আরেকটি বাস এসে তাদের উপর চাপা দিলে সেখানেই মোর্শেদসহ মোট তিনজন প্রাণ হারান।
নিহত মোর্শেদের খালু আকতার বলেন, ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে বের হয়ে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে কখনো ভাবিনি। তার স্ত্রী ও ছোট ছোট দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। তার এভাবে চলে যাওয়াতে এখন পরিবারের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। মোর্শেদের সঙ্গে থাকা অন্য বন্ধুরা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নেওয়ার জন্য আবেদন করছি।
ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে যদি সহায়তা চাওয়া হয় সেক্ষেত্রে নিয়মানুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা পাশে থাকব। এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি।
বিজ্ঞাপন
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত দুইটি বাস ও অ্যাম্বুলেন্স পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ঈদুল ফিতরের একদিন পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় একটি সেতুর মেরামত কাজ চলছে। ইতোপূর্বে সড়ক বিভাগ থেকে জানানো হয়, এই কাজ ২২ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে ২২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রামমুখী লেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে এবং ২৬ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এক লেনে যান চলাচল করবে।
তারেক চৌধুরী/এসএইচএ