মৌলভীবাজারে মুরগির বাজারে অস্থিরতা, সংকট দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রি

মৌলভীবাজারে ব্রয়লার ও সোনালিসহ সব ধরনের মুরগির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে মুরগির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে করে নিত্যপণ্যের এই চড়া দামে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা মুরগির মাংস পাতে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজারে গরুর মাংসের দাম চওড়া থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা ছিল ব্রয়লার মুরগি। এই মুরগিরও এখন সোনার মতো দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
রমজানের শেষ সময়ে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বাজারে ব্রয়লার ও সোনালিসহ সব ধরনের মুরগির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করেছেন। রমজান শুরু হওয়ার আগে যেখানে ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ও সোনালী মুরগি ২৩০-২৫০ টাকা বিক্রি হয়েছে। রমজানে কয়েক দফা মুরগির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সবশেষে ঈদের আগের দিন থেকে বাজারে ব্রয়লার মুরগি ২১০ থেকে ২৪০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা ও লাল পাকিস্তানি প্রতি পিস মুরগি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিন জেলার পৌর শহর, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জে মুরগির বাজারে ঘুরে দেখা যায়, এক মাসের ব্যবধানে মুরগির দাম বেড়েছে কয়কদফা। বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে, সোনালি মুরগি ৩৫০-৩৮০ টাকা ও লাল পাকিস্তানি প্রতি পিস মুরগি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা।
ঈদের সময় মুরগির এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রেতারা বলেন, ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সবধরনের মুরগির দাম বৃদ্ধি করে চড়া দামে বিক্রি করছেন। তাদেরকে কেউ জিজ্ঞেস করছে না কেন বেশি দামে মুরগি বিক্রি করছে। সারা বছর ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকায় ক্রয় করলেও রমজান ও ঈদ আসলেই ২২০-২৩০ টাকা হয়ে যায়। প্রতি কেজি মুরগিতে ১০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
শ্রীমঙ্গল মুরগি ক্রয় করতে আসা নাজমা আক্তার বলেন, ঈদের সময় মেহমান এসেছেন বাজারে মুরগি কিনতে এসে অবাক হয়ে গেছি। একটা ২ কেজি ওজনের ব্রয়লার মুরগির দাম ৪৪০ টাকা। প্রতি কেজি ২২০ টাকা। নিম্ন আয়ের মানুষেরা এক পিছ মাংস খাওয়ার ভাগ্য মনে হয় হবে না।
শমশেরনগর বাজারে ক্রেতা হুমায়ুন মিয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ। দিনমজুরের কাজ করি। ব্রয়লার মুরগি কিনতে এসে দাম দেখে অবাক হয়েছি। বেশি দামে মুরগি বিক্রির পরেও বিক্রেতারা ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করেন। ওজনে কম দেন আবার মুরগির ভেতরে পানি ঢুকিয়ে রাখেন।
মুরগি ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা বেশি দামে মুরগি ক্রয় করেছি, এজন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদেরকে বলা হয়েছে খামারে মুরগি নেই। ব্রয়লার মুরগি কিছু পাওয়া গেলেও সোনালি মুরগি একেবারে সংকট দেখানো হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
খুচরা মুরগি ব্যবসায়ী সাহান মিয়া বলেন, ঈদের আগে মুরগির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায় আর এতেই সংকট দেখা দেয়। সংকট থাকায় দাম বৃদ্ধি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা মুরগির দাম বৃদ্ধি করিনি। মূল জায়গায় দাম বাড়ানো হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, রমজান মাস থেকেই ব্যবসায়ীরা কৃত্রিমভাবে সংকট দেখিয়ে ব্রয়লারসহ সবধরনের মুরগির দাম বৃদ্ধি করেছেন। মুরগি যেখান থেকে পাইকারী বিক্রি হয় সেখানে দাম বাড়ানো হচ্ছে কৌশলে। ঈদের দিন থেকে দাম আরও বাড়ানো হয়েছে। আমরা স্থানীয়ভাবে বাজার স্থিতিশীলতা রাখার চেষ্টা করছি। যারা বেশি দামে মুরগি বিক্রি করবে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এম ইসলাম/এসএইচএ