ঈদের আনন্দে মাতোয়ারা ড্রিম হলিডে পার্ক, দর্শনার্থীদের ঢল

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে নরসিংদীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে জেলার পাঁচদোনায় অবস্থিত ড্রিম হলিডে পার্কে ঈদের দিন থেকেই দর্শনার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। সকাল থেকেই শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পার্কটি।
বিজ্ঞাপন
নরসিংদী জেলার পাঁচদোনার চৈতাবতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ড্রিম হলিডে পার্ক প্রায় ৬০ একর জমির ওপর নির্মিত একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকা এই পার্কে প্রবেশ টিকিটের মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩৫০ টাকা এবং ৩ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ২৫০ টাকা। ওয়াটার পার্কে প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের ৪৫০ টাকা ও শিশুদের ৩৫০ টাকা গুনতে হয়। এছাড়া লকার ভাড়া ১০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে নির্ধারিত। পার্কে প্রায় ৩০টিরও বেশি রাইড রয়েছে, যেখানে প্রতি রাইডে খরচ পড়ে ৭০ থেকে ২০০ টাকা।
ঈদের আমেজকে আরও বর্ণিল করে তুলতে পার্কজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সাজসজ্জা। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কিডস জোন, বুলেট ট্রেন, স্কাই ট্রেন, এয়ার বাইসাইকেল, সোয়ান বোট, ওয়াটার বোট, রোলার কোস্টার, ক্রেজি রিভার ও লেজি রিভারসহ নানা রাইডে চড়ার পাশাপাশি ওয়াটার পার্কে ডিজে গানের তালে নেচে-গেয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন সবাই।

দর্শনার্থী ফারজানা বেগম জানান, ঢাকার উত্তরা থেকে স্বামীর সঙ্গে ঈদের ছুটিতে ঘুরতে এসেছেন। পরিবার ছাড়া ঢাকায় ঈদ করায় আনন্দ ভাগাভাগি করতে এখানে আসা। তার ভাষায়, অনেকদিন ধরেই জায়গাটি দেখার ইচ্ছা ছিল, তাই সুযোগ পেয়ে চলে এসেছি।
বিজ্ঞাপন
আরেক দর্শনার্থী অনামিকা সাহা বলেন, ঈদ সবার, এখানে ধর্মভেদ নেই—সবাই মিলে আনন্দ করছি। পরিবেশ খুবই সুন্দর, অনেক ভালো লাগছে।
কাঁচপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা সুমাইয়া জানায়, তারা প্রায় প্রতিবছরই এখানে আসে। বিভিন্ন রাইডের অভিজ্ঞতা দারুণ, বিশেষ করে ‘সি ওয়ার্ল্ড’ তার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে।
ঢাকা থেকে আসা কামাল মিয়া বলেন, ব্যস্ত শহুরে জীবন থেকে একটু দূরে এসে শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে পারছি। স্পিডবোট, আদর্শ গ্রাম, সি ওয়ার্ল্ড—সবই বেশ উপভোগ করেছি।
বিজ্ঞাপন
এবার পার্কের নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে সি ওয়ার্ল্ড ও ড্রিম রিভার ক্যাব। এছাড়া সুনামির ঢেউ, ভুতের বাড়ি ও বিভিন্ন রোমাঞ্চকর রাইড শিশু ও বড়দের সমানভাবে আকর্ষণ করছে। বিশেষ করে শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, দর্শনার্থীদের চাহিদা বিবেচনায় প্রতি বছরই নতুন নতুন রাইড সংযোজন করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীদের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
ড্রিম হলিডে পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা বলেন, প্রতিটি ঈদকে সামনে রেখে আমরা নতুন কিছু যুক্ত করার চেষ্টা করি। এ বছর দুটি নতুন রাইড সংযোজন করা হয়েছে। ড্রিম রিভার ক্যাব-এ দর্শনার্থীরা মিশরের পিরামিড থেকে শুরু করে আগ্নেয়গিরি, সুন্দরবনের প্রাণীকুল ও উপজাতিদের জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা পাবেন। পাশাপাশি সি ওয়ার্ল্ড এ সমুদ্রের নিচের জীববৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া আদর্শ গ্রামে ৫০-এর দশকের গ্রামীণ জীবনধারা উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ঈদ উপলক্ষ্যে জেলার অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রেও দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশ ভ্রমণের পরিবর্তে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখলে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, তেমনি দেশের পর্যটন শিল্পও আরও বিকশিত হবে।
আমিনুর রহমান সাদী/এসএইচএ