ঈদুল ফিতরের শেষ দিনে চিড়িয়াখানায় আনন্দে মেতেছে শিশুরা

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আজ তৃতীয় দিন; একই সঙ্গে সরকারি ছুটিরও শেষ দিন। ছুটির এই শেষ বিকেলটুকু একটু ভিন্নভাবে কাটাতে শিশু ও পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজধানীর চিড়িয়াখানায় ছুটে এসেছেন অসংখ্য মানুষ। ঈদের দিন থেকে শুরু হওয়া দর্শনার্থীদের ঢল তৃতীয় দিনেও থামেনি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুরো চিড়িয়াখানা এলাকা ছিল মানুষের কোলাহলে মুখর, যেন এক উৎসবের মেলা বসেছে সেখানে।
বিজ্ঞাপন
ঈদের প্রথম দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন। অনেকেই আশপাশের জেলা থেকে ভোরে রওনা দিয়ে সকালেই পৌঁছেছেন চিড়িয়াখানায়। শিশুদের আনন্দ দিতে, তাদের ছোট ছোট ইচ্ছা পূরণ করতে এবং পরিবারের সঙ্গে কিছু আনন্দঘন সময় কাটাতে এই জায়গাটিকেই বেছে নিয়েছেন তারা।
চিড়িয়াখানার প্রধান ফটক থেকেই চোখে পড়ে দীর্ঘ সারি। টিকিট কাউন্টারের সামনে অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড় যেন শেষই হচ্ছে না। ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায়– বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, হরিণ, বানরসহ নানা প্রাণীর খাঁচার সামনে উপচে পড়া ভিড়। শিশুরা কৌতূহলী চোখে প্রাণীগুলো দেখছে, তাদের চলাফেরা লক্ষ্য করছে আর একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে অভিভাবকদের দিকে।
অনেকেই এই আনন্দময় মুহূর্তগুলো স্মৃতিতে ধরে রাখতে ব্যস্ত মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণে। কোথাও পরিবার নিয়ে গ্রুপ ছবি, কোথাও শিশুদের হাসিমাখা মুখ ক্যামেরাবন্দি করা– সব মিলিয়ে এক আবেগঘন পরিবেশ। চারদিকে মানুষের হাসি, শিশুদের উচ্ছ্বাস আর নিরন্তর কোলাহলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরো চিড়িয়াখানা।
বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে ভেতরের শিশুপার্কটি যেন শিশুদের স্বর্গে পরিণত হয়েছে। মিনি ট্রেন, দোলনা আর নানা রাইডে চড়তে তাদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও তাদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি একটুও। বরং প্রতিটি রাইড শেষে তাদের মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি।
দর্শনার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ঈদের ছুটির শেষ দিন, তাই বাচ্চাদের নিয়ে বের হয়েছি। ওদের অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল চিড়িয়াখানায় আসার। ভিড় একটু বেশি, কিন্তু আনন্দটা আলাদা। শিশুপার্কে বাচ্চারা খুব মজা করছে। এমন দিনে এখানে আসতে পারা সত্যিই ভালো লাগছে।’

সুমাইয়া রহমান নামের আরেকজন বলেন, ‘শিশুদের শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হয় না। বাস্তবে পশুপাখি দেখানোও দরকার। তাই ঈদের ছুটিটা কাজে লাগিয়ে তাদের নিয়ে এসেছি। এখানে এসে তারা বাঘ, সিংহসহ অনেক প্রাণী কাছ থেকে দেখছে, শিখছে। তাদের আগ্রহ আর প্রশ্ন দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।’ রাশেদা বেগম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘শিশুপার্কটা বাচ্চাদের জন্য আলাদা আকর্ষণ। আজ তাদের হাসিমুখ দেখাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
বিজ্ঞাপন
তবে আনন্দের পাশাপাশি কিছু ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে টিকিট সংগ্রহে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেককে। ভেতরে চলাচলেও ছিল চাপ, খাবারের দোকানগুলোতেও ছিল অতিরিক্ত ভিড়। বসার জায়গা কম থাকায় বয়স্ক ও শিশুদের কিছুটা কষ্ট পেতে হয়েছে বলে জানান কেউ কেউ।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ঈদের দিন চিড়িয়াখানায় প্রায় ৮০ হাজার দর্শনার্থী এসেছিলেন। দ্বিতীয় দিন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৮০ থেকে ৯০ হাজারে। আর আজও দেড় লাখের মতো মানুষ চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেছেন।’
তিনি আরও জানান, চিড়িয়াখানায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষায় কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এমএইচএন/বিআরইউ