কুয়াকাটা সৈকতে উল্লাসে মেতেছেন হাজারো পর্যটক

সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। ছুটির আমেজ আর অনুকূল আবহাওয়াকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো পর্যটক সৈকতে নেমে গোসল, খেলাধুলা ও উল্লাসে মেতে উঠেছেন। এ ছাড়া, তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, ঝাউ বাগান ও গঙ্গামতিসহ সব দশর্নীয় স্থানে রয়েছে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি। পর্যটকদের ভীড়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। বুকিং রয়েছে শতভাগ হোটেল-মোটেল। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সূর্যোদয় দেখতে ভোর থেকেই সৈকতে জড়ো হন পর্যটকরা। এরপর সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের নীল জলে নেমে পড়েন নানা বয়সী দর্শনার্থীরা। কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে লাফালাফি করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ বালুচরে বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত সাগরকন্যা কুয়াকাটা।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং লাইফগার্ড কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা টানানো হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও কাজ করছেন পর্যটকদের নিরাপত্তায়।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাশেদ মাহমুদ বলেন, কুয়াকাটার মতো জায়গা খুব কমই আছে যেখানে একইসঙ্গে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। সমুদ্রে গোসল করার অভিজ্ঞতাও দারুণ। পরিবার নিয়ে সময়টা খুব উপভোগ করছি। এখানকার পরিবেশ অনেক শান্ত। বাচ্চারা নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারছে। তাই বারবার এখানে আসতে ইচ্ছে করে।
বিজ্ঞাপন
পর্যটকদের আগমনে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন দোকানপাটে বেড়েছে বেচাকেনা। কুয়াকাটার এক হোটেল ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন পর্যটক অনেক বেশি। আমাদের প্রায় সব রুমই বুকড। এতে ব্যবসা ভালো হচ্ছে।
কুয়াকাটার চুলা রেস্তোরাঁর রাকিবুল ইসলাম বলেন, সামুদ্রিক মাছ ও স্থানীয় খাবারের চাহিদা বেড়েছে। পর্যটকদের ভিড়ে আমাদের কর্মব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কুয়াকাটার রেস্টুরেন্ট মালিকরা চেষ্টা করছেন পর্যটকদের সুস্বাদু এবং ভালো খাবার পরিবেশন করার।

হোটেল ডিমোরর ব্যবস্থাপক জয়নুল আবেদীন জুয়েল বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমাদের প্রায় ৬০ শতাংশ রুম আগে বুকিং হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সামনে পুরো সপ্তাহজুড়ে ভালো সাড়া পাওয়ার আশা করছি। পর্যটক বাড়লে আমাদের ব্যবসা আরও ভালো হবে।
বিজ্ঞাপন
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, অনেকদিন পর কুয়াকাটায় এমন পর্যটকের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এখানে প্রায় ১৬টি পেশার মানুষ সরাসরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা সবাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং আয়-রোজগারও বাড়ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে আমরা সৈকতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছয়টি টিম নিয়োজিত করেছি। যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং পর্যটকরা নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি।
এসএম আলমাস/এএমকে