দীর্ঘদিনের যানজট, সড়ক দখল ও অনিয়মিত পরিবহন স্টপেজের ভোগান্তি দূর করতে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার সব কোচের জন্য চালুর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিজ্ঞাপন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, প্রায় দুই যুগ আগে বিএনপির তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া ভবনটির উদ্বোধন করলেও বাস্তবে এটি কখনই ব্যবহার হয়নি। টার্মিনালটি নিয়মিত ব্যবহৃত হলে শহরের যানজট কমবে এবং ঠাকুরগাঁওবাসী প্রকৃত সুফল পাবে। শহরের ভেতরে বাস-ট্রাক প্রবেশের কারণে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। তাই মালিক ও শ্রমিক ভাইদের অনুরোধ করব গাড়িগুলো টার্মিনালে রাখুন, শহর আরও সুশৃঙ্খল হবে।
তবে উদ্বোধনের পর কয়েক দিন পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মাঝে তেমন সাড়া দেখা যায়নি। আগের মতোই শহরের প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে চলতে থাকে যাত্রী ওঠানামা। ফলে যানজট আবারও তীব্র আকার ধারণ করে। পরে ‘মির্জা ফখরুলের অনুরোধ রাখলেন না পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা’ শিরোনামে ঢাকা পোস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জেলাজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
প্রশাসনের তৎপরতায় শহরের প্রধান সড়ক দখলমুক্ত করা হয় এবং দূরপাল্লার সব বাসকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী ওঠানামার জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবহন মালিক শ্রমিকরাও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং টার্মিনালে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেন।
বিজ্ঞাপন
একাধিক পথচারী বলেন, আগে প্রধান সড়কে হাটারই উপায় ছিল না। যানজট, হর্ন, ধুলো আর ভিড়ে প্রতিদিনই কষ্ট পোহাতে হতো। বাসগুলো যেখানে-সেখানে দাড়ালে আমরা ভুগতাম সবচেয়ে বেশি। এখন বাসগুলো টার্মিনালে চলে যাওয়ায় অনেক স্বস্তি লাগছে। রাস্তাঘাট আগের তুলনায় অনেক খালি, চলাচলও সহজ হয়েছে। আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ধন্যবাদ তার উদ্যোগে বিষয়টি বাস্তবে রূপ পেয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রচার সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শহরের যানজট নিরসন ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে টার্মিনাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে শহরের যানজট অনেকটাই কমেছে এবং সবার জন্যই সুবিধা তৈরি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা মটর মালিক সমিতির সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী বলেন, শহরের যানজট কমানো এবং পথচারী, যাত্রী ও শ্রমিকদের সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ব্যবহারের উদ্যোগ আমরা সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করি। প্রশাসন ও শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আমরা নিশ্চিত করব যে টার্মিনাল ব্যবহারে যাত্রী সেবা সুবিধাজনক হবে এবং শহরের রাস্তাগুলো শৃঙ্খলাপূর্ণ থাকবে। সবাই মিলে কাজ করলে ঠাকুরগাঁওবাসীর স্বস্তি এবং সুবিধা দুটোই নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
রেদওয়ান মিলন/আরকে
