পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে গত ১০-১৫ দিন ধরে চলমান জ্বালানি তেলের সংকট সাম্প্রতিক কয়েক দিনে তীব্র আকার ধারণ করেছে। শহরের প্রধান পাম্প ও দোকানগুলোতে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালক ও গ্রাহকরা। এ ছাড়া, তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে ট্রাক টার্মিনাল-সংলগ্ন এমএস মহসিন স্টোরে তেল সরবরাহের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভোর থেকে সেখানে গ্রাহকদের ভিড় জমে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ঘণ্টাখানেক তেল বিক্রির পর মজুত শেষ হয়ে গেলে পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল বিক্রয় বন্ধ করে দেয়। এতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক গ্রাহক।
শহরের প্রধান ৩টি পাম্প বন্ধ থাকায় একমাত্র পাম্পে তেল বিক্রির খবরে গ্রাহকরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এতে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
এমএস মহসিন স্টোর কতৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি উপস্থিত নেই এবং অফিস তালাবদ্ধ। তবে পাম্প বন্ধ থাকলেও মোটরসাইকেল এবং ট্যাংকি হাতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, কিছু সময় তেল বিক্রির পর ‘তেল নেই’ জানিয়ে পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে দীর্ঘ সময় তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় শহরের প্রধান সড়ক ফিশারি বাধে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
মেসার্স হিল ভিউ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. ইসমাইল বলেন, তেলের কোনো ঘাটতি নেই বরং গ্রাহকদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আগে যেখানে মাসে ৮-৯টি তেলের গাড়ি আসতো বর্তমানে ১২টি গাড়ি আসার পরও সংকট দেখা যাচ্ছে। অনেক গ্রাহক প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল নিচ্ছেন এবং কেউ কেউ একাধিক ব্যক্তিকে লাইনে দাঁড় করিয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, সর্বশেষ ২৫ মার্চ তার পাম্পে ৪ হাজার লিটার অকটেন ও ৪ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছিল। শনিবার আরও ৩ হাজার লিটার অকটেন ও ৩ হাজার লিটার ডিজেল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের তান্যাবি এন্টারপ্রাইজ, এসএন পেট্রোলিয়াম এজেন্সি, মেসার্স হিল ভিউ ফিলিং স্টেশন এই ৩টি প্রধান পাম্প বন্ধ রয়েছে। পাম্পগুলোতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি এবং অফিসে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। এ ছাড়া, শহরের ভেতরে ছোট আকারের আরও ৮-১০টি দোকানেও কয়েকদিন ধরে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
তেল নিতে আসা গ্রাহক হৃদয় বড়ুয়া বলেন, প্রায় ২ঘণ্টা মতো মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি এখন শুনছি তেল শেষ। আজকে শুধু এই একটি পাম্পে তেল দেওয়ায় এখানে অতিরিক্ত ভিড় হয়েছে। সব পাম্পে একসঙ্গে তেল বিক্রি করলে এ পরিস্থিতি হতো না।
খোকন কুমার দে বলেন, আমার কাছে এটি প্রকৃতপক্ষে কৃত্রিম সংকট মনে হচ্ছে। আমি প্রায় দেড় ঘণ্টাযাবত এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। অনেকেই ট্যাংকিতে করে ৫-১০ লিটার করে তেল নিয়ে যাচ্ছে। যারা ট্যাংকিতে করে তেল নিয়ে যাচ্ছে তারা কি আসলে ব্যবহারের জন্য নিয়ে যাচ্ছে নাকি বাইরে সিন্ডিকেট করে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাচ্ছে সেটা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।
ডেলিভারি ম্যান রিপন চাকমা বলেন, আমি কে কে রায় সড়ক থেকে তেল নিতে এসেছি এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা দাড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। তেল না পেলে আমি পার্সেল ডেলিভারি করতে পারবো না।
শিক্ষক টিটন চাকমা বলেন, যাদের নিজস্ব গাড়ি নেই তারাও ট্যাংকিতে করে তেল সংগ্রহ করছেন। আগামী রোববার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলছে পাশাপাশি আমাদের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিঝু উৎসবও আসছে। এভাবে তেলের সংকট অব্যাহত থাকলে দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন এবং বিঝু উদযাপন দুটোই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।
তবে এ বিষয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এএমকে
