রংপুরে প্যানিক বায়িংয়ে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। চলমান এ তেল সংকট থেকে উত্তোরণে প্রয়োজনের বেশি তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানিয়েছে ডিপোগুলো।
বিজ্ঞাপন
এদিকে শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে নিরাপত্তার শংঙ্কায় জ্বালানি তেল ডিপোগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
মেঘনা ডিপো সূত্রে জানা যায়, সিলেট গ্যাসফিল্ড থেকে রেলের ওয়াগনের মাধ্যমে পেট্রোল-অকটেন পরিবহন করা হতো রংপুরের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেলের ডিপোতে। তেল সংকট তৈরি হলে চট্টগ্রাম থেকেও এসব ডিপোতে তেল সরবরাহ করা হতো।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সম্প্রতি তেল সংকট নিয়ে উৎকণ্ঠায় গ্রাহকরা বেশি বেশি করে তেল সংগ্রহ করে চলেছে। এতে করে গত বছরের মতো ডিপো থেকে তেল সরবরাহ করা হলেও পাম্পগুলো গ্রাহকদের জ্বালানি তেল দিতে পারছে না। ফলে পাম্প থেকে বাড়তি চাহিদা আসায় ডিপোগুলো বাধ্য হয়ে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া বিগত দিনে মাসে ৮ থেকে ১০ বার ওয়াগনের মাধ্যমে রংপুরের ডিপোগুলোতে তেল আসলেও বর্তমান ইঞ্জিন সংকটের কারণে চাহিদা মাফিক ডিজেল আসছে না।
মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ জাকির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, রংপুর জেলায় ৪৫ থেকে ৬০টি তেলের পাম্প রয়েছে। আগে পাম্পগুলো সপ্তাহে দু’বার পেট্রোল-অকটেন নিলেও বর্তমানে প্রতিদিনই পাম্প থেকে চাহিদা আসছে। ফলে সেই অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া পাম্পে গ্রাহকদের ভিড়ের কারণে নিরাপত্তার শঙ্কায় ডিপোগুলোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবারও রংপুরের পাম্পগুলোতে তেল সংকট দেখা গেছে। প্রতিটি তেলের পাম্পে শত শত মোটরসাইকেল, গাড়ির লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে অনেক গ্রাহক তেল না পেয়ে ঘুরে গেছেন। তেলের সংকট নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
বিজ্ঞাপন
এদিকে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল মজুত প্রতিরোধ, বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
শরীফুল ইসলাম আরও জানান, গত ২৫ মার্চ সকাল থেকে ঢাকা জেলায় ১টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ২টি, রংপুর জেলায় ৩টি, রাজশাহী জেলায় ৩টি, সিলেট জেলায় ২টি, মৌলভীবাজার জেলায় ৩টি, কুমিল্লা জেলায় ৩টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১টি এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ১টি ডিপোতে সর্বমোট ৯টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে। এসব ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করছে বিজিবি।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসএইচএ
