ফরিদপুরে স্ত্রী জোসনা বেগমকে (২১) যৌতুকের দাবিতে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী রাশেদ মোল্লাকে (৩১) আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
বিজ্ঞাপন
অপর একটি ধারায় তাকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে তিনি এই দুই ধারার কারাদণ্ড একই সঙ্গে ভোগ করতে পারবেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লা ফরিদপুর সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদহ বাজার এলাকার বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের শিকার স্ত্রী জোসনা বেগম একই উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে জোসনা এবং রাশেদের পারিবারিক দেখাশোনার মাধ্যমে বিয়ে হয়। বিয়ের পর রাশেদের দাবির মুখে নগদ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। এরপর জোসনা বেগমের স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল বিক্রি করে দেয়। এসব টাকা দিয়ে রাশেদ মাদক সেবন করত।
২০২০ সালের ১৬ জুলাই আবারও স্ত্রী জোসনা বেগমের কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। এই টাকা দিতে না পারায় ঘরের মধ্যে থাকা কেরোসিন তেল জোসনার শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরদিন ১৭ জুলাই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ওই দিনই (১৭ জুলাই) জোসনা বেগমের বড় ভাই জলিল শেখ বাদী হয়ে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় রাশেদের পাশাপাশি তার বড় ভাই হাসিব মোল্লাকেও (৩৪) আসামি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুজ্জামান। তিনি ২০২১ সালের ১৪ মার্চ এ মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী বলেন, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদের ভাই হাসিব মোল্লার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও যৌতুক নেওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় রাশেদকে তিন বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।তিনি বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
জহির হোসেন/আরকে
