রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মর্মান্তিক বাসডুবির ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অ্যাডভোকেট এম এ খালেদ পাভেল, শিক্ষার্থী মাহিন শিকদার, তানভীর মাহাদী রলিভ, তাহসিন বিন আতিয়ার তামিম, রিয়াজ, বাসডুবির ঘটনায় নিহত জ্যোৎস্না বেগমের ছেলে শিশু আলিফ মোল্লা, আলিফের নানি ও জ্যোৎস্না বেগমের মেয়ে শাহেদা বেগম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা শাখার নেতা হাসিবুল ইসলাম শিমুলসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজবাড়ী জেলায় কোনো উন্নত মানের বাস সার্ভিস নেই, যেই বাস দিয়ে যাত্রীদের উন্নতমানের সেবা দেওয়া যাবে। আবার এই রুটে ভালো কোনো বাস ঢুকতে দেওয়া হয় না মালিক সমিতির পক্ষ থেকে। আমরা চাই রাজবাড়ীর রুটে ভালো মানের বাস ঢুকতে দেওয়া হোক। এছাড়া দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করা হোক। গত ২৫ তারিখ দৌলতদিয়ায় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছে। অনেকে তাদের পরিবারের স্বজন হারিয়েছে। আমরা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করছি। এমন দুর্ঘটনা আমরা আর দেখতে চাই না।
বিজ্ঞাপন
মানববন্ধনে নিহত জ্যোৎস্নার ছেলে আলিফ বলেন, আমি আমার মা হত্যার বিচার চাই। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে পদ্মা সেতু চাই।
মানববন্ধন বক্তারা অবিলম্বে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করা, অদক্ষ চালক ও হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ করা, সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ীদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা,সড়কে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।
মানববন্ধন শেষে আয়োজকেরা রাজবাড়ী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের নেতাদের সঙ্গে নিরাপদ সড়কসহ কয়েকটি দাবি নিয়ে আলোচনা করতে যান।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক বলেন, যারা মানববন্ধন করেছেন তারা বলছেন রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে ভালো কোম্পানির গাড়ি চলে না। এই অভিযোগটা ভিত্তিহীন। কারণ রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইন, শ্যামলী, হানিফ, এসবি, দিগন্তসহ ১০/১২ টা কোম্পানির গাড়ি চলে। তবে সব বাস আমরা সব জায়গা দিয়ে চলতে দেই না। এটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলে।আমাদের গাড়িও অন্য রুটে চলতে দেই না। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চালাই, তারাও আবার আমাদের রুট দিয়ে গাড়ি চালায়।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরকে
