জ্বালানি তেলের দাম নতুনভাবে নির্ধারণের সংবাদের পর থেকে সাতক্ষীরার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ তেলের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। পাম্পগুলো ফাঁকা, মানুষের ভিড় নেই এবং সব ধরনের জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
মিজানুর রহমান নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, আমি মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালাই। গত কয়েক দিন ধরে দীর্ঘ লাইনে থেকেও তেল পাচ্ছি না। বৃহস্পতিবার মাত্র ৫০০ টাকার তেল পেয়েছিলাম, তারপর আর নিতে পারিনি। তেল না পেলে সংসার চলবে না।
ফিলিং স্টেশনগুলো জানিয়েছে, ডিপো থেকে তেল না আসায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তেলের গাড়ি ঢুকলে সরবরাহ পুনরায় শুরু হবে।
বিজ্ঞাপন
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ফুয়েল কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. তাজুল ইসলাম বলেন, কার্ড কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কাজ শেষ হলেই বিতরণ শুরু হবে, তবে কবে তা সম্পন্ন হবে জানা নেই।
তেলের সংকটের কারণে শহরের খোলা বাজারে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। পেট্রোল লিটার প্রতি ২৫০-৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাতক্ষীরা এবি খান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শুভ্র বলেন, ডিপো থেকে তেল না আসার কারণে পাম্পে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তেলের গাড়ি এসে পৌঁছালে আবার সরবরাহ শুরু হবে। আমরা চেষ্টা করছি যেন দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যায়।
বিজ্ঞাপন
সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, আজ পাম্প সম্পূর্ণ ফাঁকা। সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরেও তেল পাওয়া যায়নি। আমাদের দৈনন্দিন যাতায়াত, স্কুল-কলেজ, অফিস ও জরুরি সব কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা আশা করি, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে, নয়তো সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীদের দৈনন্দিন জীবন চলাচল অনেকটাই স্থগিত হয়ে যাবে।
জ্বালানি সংকটের মধ্যেই অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে প্রশাসন। সোমবার সাতক্ষীরায় অবৈধভাবে পরিবহনের সময় ৭ হাজার লিটার পেট্রোলসহ যমুনা পেট্রোলিয়ামের লোগোযুক্ত একটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ট্রাকচালকসহ মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
একই দিনে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও অধিক মূল্যে বিক্রির দায়ে আনোয়ার হোসেন খোকন নামে এক ব্যক্তিকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে কিছু অসাধু চক্র সুযোগ নিয়ে অবৈধ মজুত ও বাড়তি দামে বিক্রির মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং কার্যকর নজরদারি জোরদার না করা হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইব্রাহিম খলিল/এএমকে
