রাজশাহী অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে উদ্বেগ বিষয়ে হচ্ছে আক্রান্ত শিশুদের বয়স ৬ মাসের নিচে, যা প্রায় ৬৫ শতাংশ। বিভাগের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গেল ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে- হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরমধ্যে ২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত 'হাম কর্নার' এবং সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহিদা ইয়াসমিন জানান, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৬ মাসের নিচে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণত ৯ মাস বয়সে শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয় কিন্তু তার আগেই বিপুল সংখ্যক শিশু আক্রান্ত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডগুলোতে গাদাগাদি করে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে রোগীরা। ওয়ার্ডগুলোর ভেতর বাইরে তিল ধারণের জায়গা নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আলী হোসেন জানান, ওয়ার্ডে বেড নেই। তাই তিনি তার অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান করছেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সোমবার দুপুরে রামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। এসময় তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক, শিশু বিভাগের প্রধানসহ অন্যান্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের আটটি জেলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫০০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৪২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের সুরক্ষায় সময়মতো টিকা প্রদান এবং কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাসুদ উল আলম জানান, বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগী আসার সংখ্যা বেড়েছে। সীমিত আইসিইউ সুবিধা ও জনবল নিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
শাহিনুল আশিক/এসএইচএ
