‘আমার ছেলেকে দালাল মেরে ফেলেছে, তোমরা আমার পোলারে আইন্না দেও, আমি আমার পেলারে দেখতাম চাই, তার লগে কতা কইতাম চাই।’ লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে খাবার ও পানির অভাবে মারা যাওয়া নাঈমের মা আঁকি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলোই বলছিলেন।
বিজ্ঞাপন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া গ্রামের নাঈম মিয়ার (২২) পরিবার শোকের মাতমে ডুবে আছে।
নাঈমের বাবা দুলন মিয়া জানান, জানুয়ারিতে তাদের ছেলে লিবিয়ায় যায় ইউরোপ পাঠানোর জন্য ১৩ লাখ টাকার চুক্তিতে। সেখানে গিয়ে দালাল গ্রিসে পাঠানোর আগে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা পরিশোধের পরও তাকে পাঠানোতে দীর্ঘ টালবাহানা হয়। ২১ মার্চ শেষ পর্যন্ত গেম দেওয়ার সময় হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে জানলাম নাঈম মারা গেছে এবং তার লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
শুধু নাঈমের পরিবারই নয়, জগন্নাথপুরের আরও পাঁচটি যুবকের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল ঢাকা পোস্টকে বলেন, ইউরোপের স্বপ্ন দেখিয়ে দালালরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, অনেক পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে, শত শত যুবক অকালে প্রাণ হারাচ্ছে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ঢাকা পোস্টকে জানান, এরা তো বৈধ পথে যায়নি তাই এদের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নাই। আমরা যোগাযোগ করছি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে, যদি কোনো তথ্য থাকে তাহলে হয়তো ফরমালি আপনাদের জানাতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, যেসব খবর আমরা পেয়েছি তাদের বাড়ি বাড়ি আমাদের নির্বাহী কর্মকর্তারা যাচ্ছেন। আমরা জানতে চাইবো কাদের কাছে টাকা দিয়েছে, কি উদ্দ্যেশে তারা লেনদেন করেছে। এসব যদি জানা যায় তাহলে এদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবো।
তামিম রায়হান/এএমকে
