বিজ্ঞাপন

শিশুদের বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ, ভোলায় হাসপাতালে ভর্তি ধারণক্ষমতার ৪ গুণ

অ+
অ-
শিশুদের বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ, ভোলায় হাসপাতালে ভর্তি ধারণক্ষমতার ৪ গুণ

দ্বীপজেলায় ভোলায় হঠাৎ করে বেড়েছে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগ, এতে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশুরা। সম্প্রতি প্রতিদিনই ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ধারণক্ষমতার প্রায় চারগুণের বেশি এসব রোগে আক্রান্ত অসুস্থ শিশুরা। স্বল্প জনবল ও শয্যা সংকটে অতিরিক্ত শিশুদের চিকিৎসার চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম অবস্থা হাসপাতাল কতৃপক্ষের।

বিজ্ঞাপন

অতিরিক্ত রোগীদের চাপে আন্তঃবিভাগে ভর্তিকৃত রোগীদের মেলে না যথাযথ চিকিৎসা ও সরকারি ওষুধ। চিকিৎসকরা বলছেন, অভিভাবকদের অসচেতনতা ও আবহাওয়াজনিত সমস্যা এর মূল কারণ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, রোগীদের চাপে যেন তিল ধারনের ঠাঁই নেই জেলা হাসপাতালটির ওয়ার্ড, মেঝে ও বারান্দায়। এমনকি হাঁটার জায়গাও নেই বারান্দায়। এ ছাড়া, প্রতিটি বেডে রয়েছে দুই থেকে তিনজন শিশু। ওয়ার্ডটিতে নামেমাত্র চিকিৎসা দিচ্ছেন দুইজন শিশু রোগের চিকিৎসক।

হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সাত দিনে শুধু হাসপাতালটির ৫০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে এবং মাদার স্ক্যানু মিলিয়ে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ১ হাজার ৩০১ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এরমধ্যে শিশু ওয়ার্ডে ১ হাজার ৯৯ জন ও মাদার স্ক্যানুতে ২১০ জন।

বিজ্ঞাপন

গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিচ্ছে মোট ২১০ জন শিশু। এ ছাড়া, হাসপাতালটির ৮৭টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে সবমিলিয়ে রয়েছে ২৫ জন, আবার এরমধ্যে তিনজন রয়েছেন প্রশাসনিক পদে। অন্যদিকে, দুই তৃতীয়াংশ শুন্য নার্সদের পদ। বছরের পর বছরেও হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্স সংকট দূর হয়নি।

ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে দেড়মাস বয়সী শিশু আব্দুল্লাহ, মহিন ও সাগর। তাদের বাবা-মায়েরা অভিযোগ করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রথমে জ্বর-ঠান্ডা হয়ে অসুস্থ হওয়ায় এবং জ্বর না কমায় ছেলেদেরকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করিয়েছি। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাদের নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে। ওয়ার্ডে বেড পাইনি, যার কারণে ছেলেদেরকে বারান্দার মেঝেতে শুইয়ে রেখেছি, কি করবো?  প্রতিটি বেডে দুই-তিনজন করে শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে তো শিশুরা সুস্থ হওয়ার বিপরীতে আরও বেশি অসুস্থ হবে।

লিজা, ইয়ানুর ও হাসান নামে তিন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, সকালে একজন ডাক্তার ওয়ার্ডে এসে রাউন্ড দিয়ে গেছেন, আগামীকাল ছাড়া ওয়ার্ডে আর কোনো ডাক্তার পাব না। ডাক্তারে ওষুধ লিখে দিয়ে বলেছেন, এসব ওষুধ শিশুকে খাওয়াবেন। কিন্তু আমরা প্রেসক্রিপশন নিয়ে যাওয়ার পর বলেছেন, হাসপাতালে এসব ওষুধ সরবরাহ নেই, পরে বাইরের থেকে কিনে এনেছি। হাসপাতালে নাই ডাক্তার, ওষুধ ও চিকিৎসা। সরকারি হাসপাতালে সন্তানদের চিকিৎসার জন্য এনে লাভ কী? আমরা চাই যথাযথ চিকিৎসা।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট শিশু চিকিৎসক ডা. সালাউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, স্বাভাবিকভাবেই কাঙ্খিত সেবা ব্যহত হচ্ছে, রোগীদের চাপে আমাদের হিমশিম খেতে হয়, যতটুকু সম্ভব প্রত্যেক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আরাফাতুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। এতে শিশু ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চারগুণ বেশি শিশু রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। শিশুরোগের জন্য মাত্র দুইজন চিকিৎসক রয়েছেন, তারা আন্তঃবিভাগ ও বহিঃবিভাগ দুটোতেই রোগী দেখছেন। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও চিকিৎসক ও নার্সদের শুন্যপদ পুরন হয়নি। এ ছাড়া, অতিরিক্ত রোগীর চাপ বাড়ায় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে, দ্রুত এসবের সমাধান করা গেলে সেবার মান বাড়বে।

মো. খাইরুল ইসলাম/এএমকে

বিজ্ঞাপন