বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম

কেউ অন্যায় করলে সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না

অ+
অ-
কেউ অন্যায় করলে সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুন্দরবনে ঢোকার জন্য সকলের ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করা হবে, যাতে কেউ একাধিক পরিচয়ে পুনরায় অন্যায় করতে না পারে। আগামী বছর ৫০০-এর বেশি মানুষ সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন না। এ বছর যদি কেউ অন্যায় করে, আগামী বছর সে সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না। 

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সাতক্ষীরা বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সুন্দরবন পশ্চিমবঙ্গ বিভাগ সাতক্ষীরা রেঞ্জ আয়োজিত মধু আহরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, যারা একবার অপরাধ করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চেষ্টা করব একটি অনলাইন ডাটাবেজ তৈরি করার জন্য, যাতে বারবার একই মানুষ বিভিন্ন পরিচয়ে অন্যায় করতে না পারে। মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বনদস্যু আমাদের সমাজের একটি অংশ। জলদস্যু-বনদস্যু আমাদের আশপাশে বিরাজ করছে। আমরা যদি সামাজিকভাবে সচেতন হই এবং রুখে দাঁড়াই, তারা টিকতে পারবে না। এখানে ৫০০ মানুষ আছেন বনদস্যুর বিরুদ্ধে। আপনারা যদি সাহসী ভূমিকা নেন, সঠিক পদক্ষেপ নেন, তাদেরকে শনাক্ত করেন এবং প্রশাসনকে সত্যিকার অর্থে সহযোগিতা করেন, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। আপনারা যখন দেখছেন আপনার ভাই বা চাচা বনদস্যু, তখন তার বিরুদ্ধে কথা বলছেন না, শুধু প্রশাসনের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। সত্যিকার অর্থে দায়িত্ব পালন করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত সবকিছু মনিটর করছেন। তিনি সত্যিকার অর্থে চেষ্টা করছেন দেশ সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে। আপনারা যদি মধুকে ভেজাল না করেন, স্বার্থপর কাজ না করেন, তাহলে এই সম্পদ আমাদের জন্য অমূল্য হতে পারে। এটি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন, মানুষ রোগমুক্ত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ থাকবে। আপনি সুন্দর বনে ডাকাতি করলে আপনার সন্তান ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবে না, বরং আরও বড় ডাকাত হবে। তাই মধুতে কোনো রকম ভেজাল দেবেন না। কেউ যদি করে, ধরাই দেবেন। দৃষ্টান্ত স্থাপন করলে সমাজ ও দেশ পরিবর্তন সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার, জেলা পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান, বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদসহ বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

ইব্রাহিম খলিল/আরএআর 

বিজ্ঞাপন