গাইবান্ধায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৪ শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং ২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় গাইবান্ধার ইপিআই স্টোর বিভাগ সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জেলা ইপিআই স্টোর বিভাগের সূত্রে জানা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ৩ শিশু, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং সাঘাটা উপজেলায় ১ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এরমধ্যে বর্তমানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ২ শিশু এবং সুন্দরগঞ্জে ২ শিশু ভর্তি রয়েছে। সদর ও সাঘাটার ১টি করে শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে রয়েছে- সদরের মালিবাড়ি ইউনিয়নের শফিক মিয়ার ছেলে মারুফ (৫) এবং শান্তিরাম ইউনিয়নের পাঁচগাছি গ্রামের আরিফ মিয়ার ছেলে সাব্বির (৬)।
বিজ্ঞাপন
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশু সাব্বির ৩০ মার্চ এবং শিশু মারুফ ৩১ মার্চ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়া শিশু তাসিন ৩০ মার্চ চিকিৎসা শেষে চলে গেছে।
জেলা ইপিআই স্টোর বিভাগের সুপারিন্টেন্ডেন্ট শরীফুজ্জামান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি আছে। আক্রান্ত ছয় শিশুর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিফ রহমান বলেন, আক্রান্ত শিশুদের আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়। তিনজনের দুইজন শিশু ভর্তি রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরএমও বলেন, হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের হাম-রুবেলায় আক্রান্তের সকল চিহ্ন স্পষ্ট। তবে, যেহেতু এখানে পরীক্ষার সুযোগ নেই, সেহেতু নিশ্চিত হতে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় নমুনা পাঠানো হয়েছে
এসময় তিনি জানান, এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ। এসময় শিশুদের জ্বর ও শরীরে এ্যাশ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুদের অন্য শিশু কিংবা মানুষজন থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেন। একই সাথে স্কুলগামী কোনো শিশুর উপসর্গ দেখা দিলে বিদ্যালয়ে বিরত থাকারও পরামর্শ দেন।
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান বলেন, বর্তমানে ভর্তি হওয়া শিশুরা স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসা নিচ্ছে এবং অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরছে।
তিনি জানান, হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলায় জন্মের পর ৯ মাস বয়সে ১১ হাজার ৯৮০ শিশুকে এবং ১৫ মাস বয়সে ১১ হাজার ৯৪০ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। ড্রপআউট হয়েছে মাত্র ৪০ জন শিশু।
আরকে
