বিজ্ঞাপন

১০৯টি ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন মেডিকেল শিক্ষার্থী অর্পিতা!

অ+
অ-
১০৯টি ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন মেডিকেল শিক্ষার্থী অর্পিতা!

কুমিল্লায় অর্পিতা নওশিন নামের এক মেডিকেল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার পেছনে এক শিক্ষকের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তার সহপাঠি এবং পরিবার। গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাসের মহিলা হোস্টেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

অর্পিতা নওশিন কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি খুলনা সদর উপজেলার বাসিন্দা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে ১৮তম ব্যাচে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর পেছনে কলেজের এনাটমি বিভাগের শিক্ষক এক শিক্ষকের মানসিক অত্যাচার রয়েছে বলে দাবি করেছেন তার সহপাঠী এবং পরিবার। মানসিক চাপ থেকে ১০৯টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন নওশিন।

নাম গোপন রাখার শর্তে অর্পিতার সহপাঠীরা বলেন, প্রথম বর্ষেই কলেজের এনাটমি বিভাগের এক শিক্ষকের রোষানলে পড়ে সে। এরপর প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও এনাটমি বিষয়ে অকৃতকার্য হতে হয় তাকে। এরপর গত তিন বছরে আরও ৪ বার এনাটমির পরীক্ষা দিয়েছেন নওশিন। কিন্তু প্রত্যেকবারই পরীক্ষায় ফেল এসেছে।

একাধিক সহপাঠী জানান, গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ব্যাচের তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। ২০২১-২২ সেশনের সবাই এখন পঞ্চম বর্ষে পড়ছেন। কিন্তু অর্পিতা নওশিনের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি এখনও প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। জুনিয়রদের সাথে তার ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে মানসিকভাবে বিপর্যপ্ত ছিল, তাই অতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবেলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছে নওশিন।

বিজ্ঞাপন

অর্পিতা নওশিনের ভাই শাহরিয়ার আরমান বোনের মরদেহ নিতে কুমিল্লায় অবস্থান করছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবারও বোনের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। ফর্ম ফিলাপের জন্য টাকা নিয়েছে। আমাকে বলল যে, ভাই আমি তো বাড়িতে বলতে পারছি না আব্বুর ভয়ে, এখন তুই একটু ম্যানেজ কর। আমি বললাম, ঠিক আছে, তুই তোর বন্ধুর সঙ্গে ফর্ম ফিলাপটা কর, আমি টাকা পাঠাচ্ছি। আর আজকে এরকম খবর পাব কোনোদিন কল্পনা করিনি।

তিনি আরও বলেন, আমার বোনের এরকম কোনো মানসিকতা নেই যে সে আত্মহত্যা করবে। শিক্ষকের মানসিক চাপ থেকে এটা হয়তো করেছে। নওশিন বারবার এনাটমি বিভাগের মনিরা ম্যাডামের কথা বলত। একদম ফার্স্ট ইয়ার থেকে আমার বোনকে মানসিক নিপীড়ন করেছেন তিনি। সবাইকে পাস করিয়ে দেয়, আমার বোন প্রত্যেকটা সাবজেক্ট পাস করে, কিন্তু ওই একটা সাবজেক্টে আটকে রাখে। আমি বলেছি, আমার বোনের সমস্যা কোথায় বলেন, তাও বলবে না। প্রেসার দিতে দিতে আমার বোনকে মেন্টালি নিপীড়ন যারা করেছে, তারাই এই মার্ডার করেছে। আমি ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করছি।

তবে এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বলে জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এমন মৃত্যু আমাদের মর্মাহত করেছে। তবে কোনো শিক্ষকের অবহেলার কারণে যদি তার মৃত্যু হয়ে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

অধ্যক্ষ আরও বলেন, যেমনটি অভিযোগ আসছে এমন হয়ে থাকলে ওই ছাত্রী কিংবা তার অভিভাবকরা আগেই আমাদের লিখিতভাবে অবহিত করতে পারতেন। তবু আমরা এ বিষয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটি কাজ শুরু করেছে। পুলিশও আলাদা তদন্ত করছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষক ডা. মুনিরা জহিরের মোবাইল নম্বরে শনিবার দুপুরে কল করা হলে তিনি কেটে দেন। রাত ৮টা ৫৪ মিনিটের সময় কল করা হলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়৷ পরে তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদে বার্তা দিলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা বলেন, মেডিকেল ছাত্রীর মরদেহ রাতে উদ্ধার হয়। আজ মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। পুলিশের উদ্যোগেই ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরিফ আজগর/এমএএস

বিজ্ঞাপন