ফরিদপুরের ভাঙ্গার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদে চার গ্রামের সংঘর্ষের সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে (৪ এপ্রিল) ভাঙ্গা থানায় করা মামলায় ওই চারটি গ্রামের ৬৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেন মোল্লা।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মুনসুরাবাদ গ্রামের সাজ্জাদ শেখ (১৯), মওদুদ শেখ (৩০), সিয়াম মোল্লা (১৯) ও আরমান মাতুব্বর (১৯); খাপুরা গ্রামের লালন শিকদার (৪০) ও শাহ আলম শেখ (২৭); মাঝিকান্দা গ্রামের ফয়েজ মিয়া (৩৫), হবিবুর রহমান কাজী (৫৮) ও মো. মাইনুল ইসলাম (২৮); সিংগারিয়া গ্রামের মো. রাকিব শেখ (২৪), মো. তারেক মোল্লা (২৩) ও আইয়ুব মোল্লা (৫৫)।
মামলার এজাহারে বলা হয়, শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে মুনসুরাবাদ, খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগারিয়া গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
বিজ্ঞাপন
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বারবার সতর্ক করার পরও উত্তেজিত জনতা ছত্রভঙ্গ না হয়ে উল্টো পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং রামদা, কাতরা, লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করে। এতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় অবৈধ সমাবেশ, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং খুন করার উদ্দেশ্যে হাড়ভাঙা গুরুতর জখমসহ সাধারণ জখম করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ছয়টি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এজাহারে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার বিবরণ দিয়ে বলা হয়, এএসআই ডালিম মিয়ার বাম হাতের কনুইয়ের নিচে আঘাত, কনস্টেবল মশিউর রহমানের ডান পায়ের নিচে গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম এবং তিনি নিজে (এসআই কবির হোসেন) সহ সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে এএসআই ডালিম মিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং মশিউর রহমান ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহারে যে জব্দ তালিকা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- পাঁচটি বাঁশের লাঠি, ২০টি ইটের টুকরো এবং ৩টি কাতরা।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলামিন মিয়া বলেন, শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের ওই চার গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ও গতকাল শনিবার সকালে মুনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগারিয়া গ্রামের বাসিন্দারা। এতে দুই দিনে তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৬২ জন আহত হন। গত শনিবারের সংঘর্ষ ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।
জহির হোসেন/এসএইচএ
