বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে টাকা আদায়, চট্টগ্রামে প্রতারক গ্রেপ্তার

অ+
অ-
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে টাকা আদায়, চট্টগ্রামে প্রতারক গ্রেপ্তার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রামের পটিয়ায় রিয়াদ বিন সেলিম নামে (৪০) একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ছবি ও ভুয়া পরিচয়পত্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে পটিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এসময় তার কাছ থেকে একাধিক ভুয়া পরিচয়পত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সিএসএফ চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্স লেখা আইডি কার্ড, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর, বাওফেং মডেলের ওয়াকিটকি সেট, সিগন্যাল লাইট, মনিটরিং সেল কার্ড এবং একাধিক মোবাইল ফোন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, রিয়াদ তার ফেসবুক আইডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করত। প্রাথমিকভাবে এসব ছবি এআই দ্বারা তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল শাখার ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে তদবির বাণিজ্য করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, কুমিল্লার দেবিদ্বারের বাসিন্দা মো. কামরুল হাসান জেলহাজতে থাকাকালে রিয়াদ তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এ প্রলোভনে প্রথমে বিকাশে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং পরে নগদ ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের বিরুদ্ধে পূর্বেও নারী নির্যাতন ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ঝুলে আছে।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত উপ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম) নাজমুল হাসান জানান, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ট্যাক্স ইন্সপেক্টর ও কন্ট্রোল-সার্ভার ইনচার্জসহ বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামেও তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। একইসঙ্গে ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির তথ্য দিয়ে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণও পাওয়া গেছে। 

পুলিশ বলছে, প্রতারণাকে পেশা হিসেবে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধ করে আসছিল রিয়াদ। তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

এমআর/এমএসএ