মাদারীপুরের রাজৈরে পূর্ব শত্রুতার জেরে আলোচিত গৃহবধূ ঝুনু আক্তার (৩৯) হত্যার মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার গভীর রাতে কুষ্টিয়া সদরের স্বস্তিপুর ভাদালিয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
রোববার দুপুরে আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। এর আগে গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজৈর উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের মরেরকান্দি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ঝুনু একই এলাকার ইজিবাইক চালক মিজানুর শেখের (৪৮) স্ত্রী। গ্রেপ্তার তরিকুল ইসলাম (২৮) পার্শ্ববর্তী ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার রাজেশ্বরদী গ্রামের সিরাজ হাওলাদারের ছেলে।
মামলা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে রবি মোল্লার বন্ধকী জমিতে রসুন টোকাতে যান ঝুনু। এসময় তরিকুলসহ তার লোকজনের সাথে ঝুনুর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ গুম করার জন্য জমির পাশে একটি পরিত্যক্ত পুকুর পাড়ে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
এদিকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাচ্ছিল না পরিবারের লোকজন। পরে স্থানীয়রা ঝোপের মধ্যে মানুষের মরদেহ দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মিজানুর বাদি হয়ে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর মাদারীপুর র্যাব-৮ ও কুষ্টিয়া র্যাব-১২ যৌথ অভিযান চালিয়ে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে কুষ্টিয়া সদর থানায় আসামিকে হস্তান্তর করলে সেখান থেকে রাজৈর থানায় আনা হয় এবং রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, ঝুনু হত্যা মামলা রুজু হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই র্যাবের সহায়তায় কুষ্টিয়া সদর থেকে মামলার প্রধান আসামি তরিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করি। অন্য আসামি গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এসএইচএ
