রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) আয়োজিত প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসবে জীবন্ত হয়ে উঠেছে মধ্য ও প্রাচীন যুগের ইতিহাস এবং বিভিন্ন প্রত্নস্থানের চিত্র। প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসবটি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বর ও কবি হেয়াত মামুদ ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে উদ্বোধন করেন বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দিনব্যাপী এই প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়।
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আশমীরা আলম প্রান্ত বলেন, আমরা প্রত্নতত্ত্বের শিক্ষার্থী। আমরা চাই শুধু প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কে আমরা কেন জানব, সকলে যেন গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থান সম্পর্কে সুন্দর ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে। সে উদ্দেশ্য আমাদের প্রত্নপ্রদর্শনীয় ও ঐতিহ্য উৎসব। আমরা চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন প্রত্নস্থান সম্পর্কে বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ সম্পর্কে জানতে পারে এবং এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে।
প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব দেখতে আসা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. মো. হারুন-আল রশিদ বলেন, প্রদর্শনীতে ঢোকার পরে আমি খুব অভিভূত। আসলে আমরা সাধারণত পত্রপত্রিকা ও বই-পুস্তক এসব ঐতিহাসিক স্থানগুলো দেখতাম। সবার সব জায়গায় গিয়ে দেখার সুযোগ হয় না। এখানে এসে আমার মনে হচ্ছে, আমি যেন ওই সময় ওই জায়গায় ফিরে গিয়েছি, এটা অন্যরকম অনুভূতি। তারা এটা সুন্দরভাবে ঐতিহাসিক প্রত্ন স্থানগুলো তুলে ধরেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত এই বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে হাইলাইটস করা এবং এই ধারাটা অব্যাহত থাক।
বিজ্ঞাপন
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোহাগ আলী বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে যে বাস্তব জ্ঞান, সেটা ছড়িয়ে দেওয়া। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি লক্ষ্য নিয়ে আমাদের আজকের এই প্রদর্শনী উৎসবের আয়োজন। এখানে আমরা প্রত্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন সমূহ প্রদর্শনীর পাশাপাশি এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পোশাক প্রেজেন্ট করছি, ফলে সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের ঐতিহ্য এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।
রিপন শাহরিয়ার/এসএইচএ
