বিজ্ঞাপন

জ্বালানি সংকটে সেচ ব্যাহত, পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির

অ+
অ-
জ্বালানি সংকটে সেচ ব্যাহত, পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকটের কারণে ফসলি জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। ধানক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের বড়চালা, নলুয়াকুড়িসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

সকালের রোদে নিজের ধানক্ষেত ঘুরে দেখছিলেন হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নলুয়াকুড়ি এলাকার কৃষক মো. লিটন। তিনি এ বছর ১৫ কাঠা জমিতে ধান চাষ করেছেন। তিনি জানান, লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়া যায় না। তেলের অভাবে ক্ষেতে পানি দিতে না পারায় ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

এক কাঠা জমিতে প্রায় ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয় উল্লেখ করে লিটন বলেন, পানি না দিলে ধান হবে না, ক্ষেত পুড়ে যাচ্ছে। এত খরচ করেও ফলন পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছি। 

একই এলাকার কৃষক শাহাবুদ্দিন এবার ৮ কাঠা জমিতে ধান চাষ করেছেন। প্রতি কাঠায় তার খরচ হয়েছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। তিনি প্রতি কাঠায় ৪ থেকে ৫ মণ ধান পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু তেলের সংকটের কারণে সময়মতো সেচ দিতে না পারায় ধান মরে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। 

বিজ্ঞাপন

শাহাবুদ্দিন বলেন, এই মুহূর্তে পানি দিতে না পারলে ধানের শীষ নষ্ট হয়ে যাবে, ফলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

লাউতির খাল পাড় ব্রিজ এলাকায় ধানক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করছিলেন হবিরবাড়ীর কৃষক আব্দুল হেলিম। তিনি বলেন, তেলের অভাবে ক্ষেতে পানি দেওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ দিয়ে সেচ দিতে গেলে খরচ অনেক বেশি পড়ে, বিদ্যুৎ বিলও বেশি আসে। ফলে কৃষিকাজ করে খরচ উঠানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা বাড়ছে।

বিকেলে একই এলাকার লাউতির খাল পাড়ে শ্যালো মেশিন মেরামত করছিলেন মোস্তফা কামাল। তিনি জানান, লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সকালে লাইনে দাঁড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলেও তেল মেলে না। আগে ১০০ টাকা লিটার দামে তেল পাওয়া গেলেও এখন ১৫০ টাকা লিটারেও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। তেলের অভাবে সেচ দিতে না পারায় ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। 

বিজ্ঞাপন

মোস্তফা বলেন, এই সময় ধানের জন্য পানি খুবই প্রয়োজন, কিন্তু তেলের অভাবে তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, জমি ফেটে যাচ্ছে- এমন পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি। ময়মনসিংহে অধিকাংশ সেচ মেশিন বিদ্যুৎচালিত এবং অল্প কিছু ডিজেলচালিত। এছাড়া জেলায় পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত রয়েছে এবং তা দিয়ে সেচের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।

আরএআর