ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. নুরুন্নবী সরকারকে মারধরের ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে দিনাজপুরের সুইহাড়ি এলাকা থেকে রাণীশংকৈল থানা-পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার। রাত সাড়ে ৯টার দিকে মামুনুর রশিদ মামুনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে প্রবেশ করেন। এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পিআইও এবং তার দপ্তরি আইয়ুব আলীর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তারা আহত হন।
ঘটনার পরপরই পিআইও নুরুন্নবী সরকার বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, ঘটনার পরদিনই পুলিশ পৌর শহরের ভান্ডারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিয়াউর রহমান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে শুক্রবার রাতে মামলার প্রধান অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ মামুনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে প্রবেশ করে পিআইওকে মারধরের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় মামুনুর রশিদ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে, প্রকল্পের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে দিনদুপুরে লোকজনের সামনে এক ইউপি সদস্যকে ‘সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে পুতে ফেলার’ হুমকি দেন পিআইও মো. নুরুন্নবী সরকার। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বাচোর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আক্কাশ আলী তার বিরুদ্ধে রাণীশংকৈল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
শুধু তাই নন রাণীশংকৈলে যোগদানের পর থেকেই পিআইও নুরুন্নবী সরকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অফিস কক্ষে ধূমপানসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে এর আগেও তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই মানববন্ধনের সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় দুই সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সুজন ও ফারুক আহম্মেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রেদওয়ান মিলন/এএমকে
