বিজ্ঞাপন

বাগেরহাটে কুকুর পানিতে পড়ে কুমিরের শিকার, আসলে কী ঘটেছিল?

অ+
অ-
বাগেরহাটে কুকুর পানিতে পড়ে কুমিরের শিকার, আসলে কী ঘটেছিল?

বাগেরহাটের হযরত খানজাহান (রহ.)–এর মাজারের দিঘিতে কুমিরের মুখে কুকুর পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। কেউ বলছেন ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরকে কুকুর খাওয়ানো হয়েছে, আবার কেউ এটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন। প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য সরেজমিনে অনুসন্ধান করে উঠে এসেছে ভিন্ন এক চিত্র।

বিজ্ঞাপন

দর্শনার্থীরা জানান, মাজারের  দিঘির কুমির মানেই এক ধরনের বিনোদন। ইচ্ছে করলেই মিঠা পানির কুমি এখানে সেখানে দেখা যায় না। তাই মাজারের দিঘির কুমিরের বিচারণ দেখতে আমরা যেমন মাদারীপুর থেকে দেখতে এসেছি এরকম সারা দেশ থেকেই ছুটির দিনে অনেকে পরিবারসহ এখানে আসেন। তবে এখানে এসে জানতে পারলাম, ঐতিহ্যবাহী দিঘির কুমিরকে কুকুর খাওয়ানো হচ্ছে। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে এটা দুঃখজনক।

আলিফ নামের এক দর্শনার্থী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন ভিডিও দেখলাম কুমির কুকুরকে খাচ্ছে। আসলে কি কুমিরকে কুকুর খাওয়ানো হচ্ছে- নাকি অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা। দিঘির পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব সকলের। আমরা আসল ঘটনা জানতে চাই।

তবে মাজারের খাদেম, নিরাপত্তাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

মাজারের ঘাটের পাশে দোকানি বিনা আক্তার বলেন, কুকুরটি তার দোকানের সামনেও কয়েকজনকে আক্রমণ করে এবং একটি শিশুকেও কামড় দেয়। পরে কুকুরটি পানিতে পড়ে গেলে কুমির ধরে নিয়ে যায়। এ নিয়ে এখন সামাজিক মাধ্যমে নানা মিথ্যা গল্প ছড়ানো হচ্ছে।

মাজারের নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদার বলেন, ঘাটে কুমিরটি অবস্থান করছিল। তখন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা কুমিরটি দেখছিল। এসময় আমি নিরাপত্তার জন্য ঘাটেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটা বেওয়ারিশ কুকুর এসে পায়ে আঁচড় দেয়। তখন আত্মরক্ষার্থে পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। পরে দিঘিতে থাকা কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়। আধা ঘণ্টা পরে কুকুরটি ভেসে উঠলে কুকুরটিকে উদ্ধার করে মাটি চাপা দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আমি কুকুরের আঁচড়ে আক্রান্ত হলে বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতালে টিকা নেই। 

খানজাহান আলী মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুলভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। মাজারের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে সকলকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাজারের কুমিরকে কুকুর খাওয়ানো হচ্ছে এমন শিরোনামে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন। আসল ঘটনা অনুসন্ধানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তদন্তের মাধ্যমে আসল ঘটনা উঠে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক।

ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের দাবি ও গুজব ছড়ালেও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী এটি একটি দুর্ঘটনা। তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন