• সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • সারাদেশ
    জেলার খবর
  • খেলা
  • বিনোদন
  • জবস

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

  1. জাতীয়

ভাইরালের নেশায় মহাসড়কে ‘মরণ খেলা’ : ঝুঁকিতে যাত্রী ও পথচারী

দ্বীন অর্ণব
দ্বীন অর্ণব
১৭ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৩
অ+
অ-
ভাইরালের নেশায় মহাসড়কে ‘মরণ খেলা’ : ঝুঁকিতে যাত্রী ও পথচারী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রিলস বা ফেসবুক ফিড স্ক্রল করলেই ইদানীং চোখে পড়ে যানবাহনের বেপরোয়া গতির রুদ্ধশ্বাস সব ভিডিও। সম্প্রতি ‘চাঁদনী পরিবহন’ নামের একটি বাসের ভিডিও নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ব্যস্ত মহাসড়কে অন্যান্য যানবাহনের কোনো তোয়াক্কা না করেই হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে ‘বাউলি’ (বিপজ্জনক বাঁক) কাটছে বাসটি। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এটি ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা খায়; অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় বাসটিসহ আশপাশের অন্যান্য যানবাহন।

বিজ্ঞাপন

ঠিক সেই সময় হাতে ক্যামেরা নিয়ে রাস্তার পাশে বসে ছিলেন কিছু ছবি শিকারি; তাদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে এই দৃশ্য। ঘটনাটি ঘটে বগুড়ার শেরপুর এলাকার নাবিল হোটেল এলাকায়। কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা ও ‘লাইক-শেয়ার’ পাওয়ার আশায় মহাসড়কে বিপজ্জনক মরণখেলায় মেতেছে একদল কিশোর ও যুবক। তথাকথিত ‘বাস লাভার’ পরিচয়ে তারা চালকদের বেপরোয়া গতিতে বাস চালাতে এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে ‘বাউলি’ কাটতে উসকানি দিচ্ছে। স্রেফ ভিডিও ধারণের জন্য তৈরি এই সাজানো মরণফাঁদ সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে

রহস্যের জট খুলল সেই বাসের ভেতরের আরেকটি ভিডিও সামনে আসতেই। সেখানে দেখা গেল এক ভয়াবহ দৃশ্য। চালকের আসনের পাশে ইঞ্জিন কাভারে বসে আছে কয়েকজন কিশোর। তাদের চোখেমুখে কোনো আতঙ্ক নেই, বরং আছে এক ‘অসুস্থ উন্মাদনা’। তাদের উদ্দেশ্য একটাই— বিপজ্জনক এই ড্রাইভিং ক্যামেরাবন্দি করা এবং সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে রাতারাতি ‘ভাইরাল’ হওয়া।

বিজ্ঞাপন

সাজানো মরণফাঁদ ও ‘বাস লাভার’ সংস্কৃতি

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে ওত পেতে থাকা ভিডিও শিকারি এবং বাসের ভেতরের কিশোরদের মধ্যে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। স্রেফ কিছু ‘লাইক’ আর ‘শেয়ারের’ নেশায় চালককে উসকে দিয়ে এই মরণফাঁদ তৈরি করা হয়েছিল। সাধারণ যাত্রী বা পথচারীদের জীবনের পরোয়া না করে মহাসড়ককে তারা বানিয়ে ফেলেছে এক পরিকল্পিত ‘ডেথ ট্র্যাক’।

দুর্ঘটনার মুখে থাকা বাসের ভেতর ও বাইরে থেকে তোলা একই সময়ের দৃশ্য। ছবি- সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন

সামাজিক মাধ্যমে চোখ রাখলেই এমন হাজারো ভিডিও চোখে পড়বে। একই কায়দায় এই অসুস্থ ভাইরালের নেশায় সড়কে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে অসংখ্য কিশোর ও যুবক। তারা নিজেদের পরিচয় দেয় ‘বাস লাভার’ বা বাসপ্রেমী হিসেবে। বলাই বাহুল্য, তাদের হাতে এখন সড়কের নিরাপত্তা যেন নিছক ছেলেখেলা। প্রায় চার বছর আগে এই ভয়াবহ প্রবণতা নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসন কড়া নজরদারির আশ্বাস দিয়েছিল; তবে বাস্তবে তার কোনো সুফল মেলেনি। উল্টো সময়ের ব্যবধানে এই চক্রগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আগে হাতেগোনা কয়েকটি গ্রুপ থাকলেও এখন তা কয়েক গুণ বেড়ে বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েছে, যারা নিয়মিত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধারণ করা এসব ভিডিওর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ভিউ ও সস্তা জনপ্রিয়তা কুড়াচ্ছে।

টিকটক ও ফেসবুকে গড়ে ওঠা বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব গ্রুপে ‘রেস’ বা প্রতিযোগিতার নামে উসকানিমূলক ক্যাপশন ব্যবহার করে চালকদের আক্রমণাত্মক ড্রাইভিংয়ে প্ররোচিত করা হয়। এমনকি গভীর রাতে হেডলাইট বন্ধ করে গাড়ি চালানোর মতো আত্মঘাতী দৃশ্য ধারণ করাও এখন বীরত্ব হিসেবে প্রচার পাচ্ছে, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া চাঁদনী পরিবহনের সেই ভিডিওকাণ্ডে জড়িত ‘বাস লাভার’ গ্রুপের এক সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছে ঢাকা পোস্ট। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই যুবক দাবি করেন, ‘হ্যাঁ, ভিডিওটি আমাদের গ্রুপের ঠিকই, কিন্তু আমরা কোনো ভুল করিনি। আমরা চালককে বিপজ্জনকভাবে বাস চালাতে (বাউলি দিতে) বলিনি; চালক নিজেই উৎসাহী হয়ে এটি করেছেন। অথচ সব দোষ হচ্ছে আমাদের। বাসে কোনো সাধারণ যাত্রী ছিল না, যারা ছিল তারা সবাই আমাদের গ্রুপের সদস্য। আমাদের মেম্বারও খুব কম, তাই আমরা কোনো অপরাধ করিনি।’

ভিডিওটি আমাদের গ্রুপের ঠিকই, কিন্তু আমরা কোনো অপরাধ বা ভুল করিনি। আমরা চালককে বিপজ্জনকভাবে বাস চালাতে বা বাউলি দিতে সরাসরি বলিনি; চালক নিজেই অতি-উৎসাহী হয়ে এটি করেছেন। বাসে কোনো সাধারণ যাত্রী ছিল না, যারা ছিল সবাই আমাদের গ্রুপের সদস্য ছিল। অহেতুক আমাদের দোষ দেওয়া হচ্ছে।—নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক বাস লাভার গ্রুপের সদস্য।

তবে, মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। শুধু চাঁদনী পরিবহন নয়, হানিফ পরিবহন, গোল্ডেন লাইন কিংবা ইকোনোর মতো নামীদামি সব পরিবহনের চালকেরাই এখন এই মরণনেশায় আক্রান্ত। মহাসড়কের পাশে তথাকথিত ‘বাস লাভার’ বা ক্যামেরা হাতে ছবি শিকারিদের দেখলেই চালকেরা অতি-উৎসাহী হয়ে ওঠেন। শুরু হয় বিপজ্জনক বাউলি বা রুদ্ধশ্বাস গতির লড়াই। অনেক সময় কিশোর-যুবকদের বাসের ইঞ্জিন কাভারে উঠে ক্যামেরা অন করে চালককে আরও জোরে চালাতে বা অন্য বাসের সঙ্গে ‘রেস’ করতে উসকানি দিতেও দেখা যায়। স্রেফ কয়েক মুহূর্তের ভিডিওর জন্য এভাবেই প্রতিনিয়ত মহাসড়কগুলোতে তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সাধারণ যাত্রীবাহী বাসের তুলনায় মূলত ‘রিজার্ভ’ বা ভাড়া করা বাসে এই বিপজ্জনক প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য এক ‘বাস লাভার’ গ্রুপের সদস্য জানান, কিছু গ্রুপ আছে যারা এক বা একাধিক বাস রিজার্ভ করে এসব কর্মকাণ্ড চালায়। সদস্য সংখ্যা অনেক হওয়ায় সহজেই বাসের ভাড়ার টাকা উঠে আসে।

এই ভ্রমণের কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য থাকে নেই; বরং মূল উদ্দেশ্য থাকে নিছক আনন্দ লাভের জন্য চালককে দিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো বাস চালানো। এ সময় চালককে দিয়ে জোর করে দ্রুতগতিতে চালানো কিংবা বিপজ্জনক ‘বাউলি’ কাটানোর মতো ঘটনাগুলো ঘটে। এমনকি অনেক সময় আগে থেকেই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সদস্যদের একটি দলকে হাতে ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়, যাতে চালকের সেই বিপজ্জনক ড্রাইভিং নিখুঁতভাবে ক্যামেরাবন্দি করা যায়। একদল তরুণের এমন উন্মাদনা সাধারণ যাত্রীদের জীবনের জন্য এখন বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফিরে দেখা : ২০২২-এর সেই ভয়ংকর দুর্ঘটনা

এই প্রবণতার বিষয়টি প্রথম বড় আকারে আলোচনায় আসে ২০২২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। সেদিন রাতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় দুটি বাসের প্রতিযোগিতার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস মালবাহী ট্রাককে ধাক্কা দিলে ট্রাকটি উল্টে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে চালক ও হেল্পার গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় আসল চিত্র। সেখানে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, দুটি বাসের মধ্যে প্রাণঘাতী ওভারটেকিং প্রতিযোগিতা চলছিল এবং পেছনের আরেকটি বাস থেকে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করা হচ্ছিল। সেই ভিডিওর নেপথ্যে শোনা যাচ্ছিল, চালকদের বেপরোয়া গতিতে চালাতে ক্রমাগত উসকে দিচ্ছিল ‘বাস লাভার’ পরিচয়ের একদল তরুণ। সবচেয়ে অমানবিক বিষয় ছিল, চোখের সামনে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর আহতদের সাহায্য করার পরিবর্তে তারা ভিডিও ধারণেই মত্ত ছিল এবং দায় এড়ানোর পরিকল্পনা করছিল।

টিকটক ও ফেসবুকে ‘রেস’ সংস্কৃতি

জানা গেছে, টিকটক ও ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে তৈরি বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজকে কেন্দ্র করেই এই বিপজ্জনক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সেখানে বাসের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করার আড়ালে মূলত একদল উগ্র সদস্য চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে প্ররোচিত করে। এই ভিডিওগুলোতে ব্যবহৃত উসকানিমূলক ক্যাপশনগুলো রীতিমতো পিলে চমকানো। কখনও লেখা হয়— ‘ক্যামেরা দেখে অমুক বাসের সেই লেভেলের বাউলি’, আবার কখনও প্রতিপক্ষ বাসকে আক্রমণ করে লেখা হয়— ‘আজকে হানিফের কাছে গোল্ডেন লাইন শেষ’ অথবা ‘এত জোরে টানব যে বাম্পারও খুঁজে পাবি না’।

এই ধরনের আক্রমণাত্মক ক্যাপশন দিয়ে মূলত মহাসড়কে এক বাস কর্তৃক অন্য বাসকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করার বিষয়টিকে ‘বীরত্ব’ হিসেবে প্রচার করা হয়। এমনকি কিছু ভিডিওতে গভীর রাতে হেডলাইট পুরোপুরি বন্ধ করে বাস চালানোর মতো ভয়াবহ ও আত্মঘাতী দৃশ্যও দেখা গেছে। স্রেফ কয়েক মুহূর্তের এই উন্মাদনা আর সস্তা জনপ্রিয়তার নেশায় বাসের সাধারণ যাত্রী তো বটেই, মহাসড়কে থাকা অন্যান্য যানবাহন এবং পথচারীরাও প্রতিনিয়ত চরম জীবনঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।

উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান

যখন দেশের সচেতন নাগরিক ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কর্মীরা সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোচ্চার, ঠিক তখনই এই উচ্ছৃঙ্খল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও কথিত ‘বাস লাভাররা’ সড়কের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানোর সব চেষ্টা যেন নস্যাৎ করে দিচ্ছে তাদের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন উন্মাদনা।

বলাই বাহুল্য, দেশের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়েছে প্রায় ৯.৫ শতাংশ। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাব মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান প্রায় ৩১ হাজার ৫৭৮ জন মানুষ। অন্যদিকে বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত বা পঙ্গুত্বের শিকার হন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব দুর্ঘটনার বড় একটি অংশের সঙ্গেই যাত্রীবাহী বাসের বেপরোয়া গতির যোগসূত্র রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসনের বক্তব্য

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুতগতির ভিডিও তৈরি এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা যে সড়ক নিরাপত্তার জন্য এক নতুন আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কয়েক বছর আগে বিষয়টি প্রথম নজরে এলেও এখন পর্যন্ত এটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ‘ভাইরালের’ নেশা এখন সড়ক নিরাপত্তার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়লেও ডিজিটাল মাধ্যমের এই নতুন আপদ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণপরিবহনকে রেসিং কার হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে কঠোর আইনি প্রয়োগ ও সিসিটিভি মনিটরিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। পুলিশ বলছে, এই ভয়ংকর নেশা বন্ধ করতে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং তাৎক্ষণিক অভিযোগ অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে দুর্ঘটনা ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘সড়কে সুশৃঙ্খল নজরদারি না থাকায় আমরা মহাসড়কে রেসিং বা ওভারস্পিডিং থামাতে পারছি না। এর মধ্যে নতুন নতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে, যার একটি বড় উদাহরণ হলো এই ‘বাস লাভার চক্র’। তারা মূলত গণপরিবহনকে ব্যবহার করে বিপজ্জনক রেসিং বা প্রতিযোগিতায় মেতে উঠছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু বাসের যাত্রীদের জন্যই নয়, বরং যারা নিয়ম মেনে সড়কে চলেন তাদের জন্যও এক চরম ঝুঁকির কারণ। এই ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসনের উচিত কঠোর অভিযান চালানো এবং গণপরিবহন আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। মহাসড়কগুলোকে সার্বক্ষণিক সিসিটিভির আওতায় এনে নিবিড় মনিটরিং করার কোনো বিকল্প নেই।’

সড়কে নজরদারির অভাবে আমরা মহাসড়কে রেসিং থামাতে পারছি না। এখন নতুন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই বাস লাভার চক্র, যারা গণপরিবহনকে রেসিংয়ের কাজে ব্যবহার করছে। এটি থামাতে কঠোর অভিযান ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। মহাসড়কগুলোকে সার্বক্ষণিক সিসিটিভির আওতায় এনে নিবিড় মনিটরিং করা ছাড়া এই মরণখেলা বন্ধ করা অসম্ভব— ড. মো. হাদিউজ্জামান, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ।

মহাসড়কে ‘ভাইরাল’ হওয়ার এই বিপজ্জনক উন্মাদনাকে একটি ভয়াবহ নেশা হিসেবে অভিহিত করেছেন হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি মনে করেন, স্রেফ সাময়িক আনন্দের মোহে তরুণদের এই বেপরোয়া আচরণ যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটাতে পারে। পুলিশের অগোচরে চলা এই ‘মরণ খেলা’ বন্ধ করতে তিনি সাধারণ যাত্রী, চালক ও পথচারীদের সচেতন হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বাসচালকদের উসকানি দেওয়া কিংবা ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি এখন রীতিমতো নেশার মতো হয়ে গেছে। হাইওয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে আমাদের ফোর্স সক্রিয় রয়েছে। তবে, এই অপরাধ রোধে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। যাত্রী বা চালক— যে কেউ এমন উসকানিমূলক কাজ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাবেন। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে আমাদের টিমকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।’

বাস চালকদের উসকানি দেওয়া কিংবা ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি এখন নেশার মতো হয়ে গেছে। এটি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। আমাদের ফোর্স সক্রিয় থাকলেও সুযোগ বুঝে আড়ালে এসব করা হয়। তাই রাস্তায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড দেখলে সাথে সাথে ৯৯৯-এ ফোন করুন; আমরা তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।— ইমতিয়াজ আহমেদ, ডিআইজি, হাইওয়ে পুলিশ

তিনি আরও বলেন, ‘তারা হয়তো আনন্দের জন্য এটি করছে, কিন্তু এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তাই রাস্তায় এমন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সঠিক অবস্থান জানান। তথ্য পাওয়া মাত্রই হাইওয়ে পুলিশ দ্রুততম সময়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

ডিএ

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

সড়ক দুর্ঘটনানিহতমৃত্যুভিডিও ভাইরালফেসবুকফেসবুক লাইভটিকটকপুলিশকিশোর গ্যাংসড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়

ফলো করুন

MessengerWhatsAppGoogle News

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

মাগরিবের নামাজের সময় নিভে গেল ৪০৮ প্রাণ

পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানেমাগরিবের নামাজের সময় নিভে গেল ৪০৮ প্রাণ

দুর্ঘটনার কবলে এমপি মুজাহিদের গাড়ি, আহত ৩

দুর্ঘটনার কবলে এমপি মুজাহিদের গাড়ি, আহত ৩

ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মুন্সীগঞ্জের হবি মিয়া নিহত

ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মুন্সীগঞ্জের হবি মিয়া নিহত