শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে গুণগত পরিবর্তন আনতে শিক্ষক ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষাক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি, দীর্ঘ সময় ধরে সুস্পষ্ট কোনো ভিশনের অভাব ছিল। তবে বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌর মিলনায়তনে ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক ও রাষ্ট্রের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারাব পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আজ আমাদের দেশে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পরও অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না। এই বাস্তবতা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে আসে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, শ্রেণিকক্ষে কী ধরনের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা লাখ টাকা খরচ করে ভবন নির্মাণ করছি, কিন্তু ভেতরে শিক্ষা কী হচ্ছে—সেটা দেখতে হবে। কারিকুলাম, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষাদানের দক্ষতা—এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয় জরুরি। যোগ্য শিক্ষক যেন শ্রেণিকক্ষে থাকেন, তা নিশ্চিত করতে প্রধান শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওপর থেকে শুধু সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়, শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আপনারা দায়িত্ব নিন, আমরা সবাই মিলে কাজ করব। তাহলেই আগামী দিনে শিক্ষার মান বদলানো সম্ভব হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সরকার অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারে, কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরিতে শিক্ষকদেরই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ সময় তিনি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ, দরিদ্র কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রূপগঞ্জে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সেমিনারে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, করোনা মহামারি ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংকটে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে শিক্ষা একটি সেবাখাত হিসেবে বিবেচিত হলেও বাংলাদেশে এ খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও নিরাপদ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা জরুরি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানুর রহমান, সোহানুর রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুধীজন। সেমিনার শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
মেহেদী হাসান সৈকত/এএমকে
