বিজ্ঞাপন

বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

শিক্ষকদের সমন্বয় সভার ব্যানারে সরকারি কর্মকর্তাকে সংবর্ধনা

অ+
অ-
শিক্ষকদের সমন্বয় সভার ব্যানারে সরকারি কর্মকর্তাকে সংবর্ধনা

রংপুরের পীরগাছায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় এক সরকারি কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত সংবর্ধনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেনের নির্দেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে, যা সরকারি চাকরিজীবী আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১১ এপ্রিল) উপজেলার তাম্বলপুর ইউনিয়নের গোলাম রহমান কলেজে এ সভার আয়োজন করা হয়।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসের ১১ তারিখ উপজেলার ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে পীরগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে গত ৯ এপ্রিল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন স্বাক্ষরিত লিখিত নির্দেশে ভেন্যু পরিবর্তন করে তাম্বলপুর ইউনিয়নের গোলাম রহমান কলেজে সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় উপস্থিত প্রধান শিক্ষকরা জানান, সেখানে নিয়মিত প্রশাসনিক আলোচনার পরিবর্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বিভাগের মহাপরিচালক গোলাম রহমানকে কেন্দ্র করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মঞ্চে ব্যানারের ওপর তার ছবি টাঙ্গানো ছিল এবং অনুষ্ঠানে তার স্ত্রীসহ উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ২৫ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন না বা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন না। সমন্বয় সভার মতো একটি দাপ্তরিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি এবং সেখানে একজন সরকারি কর্মকর্তার সংবর্ধনা গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা গোলাম রহমান সরকারি চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় নিজের নামে বেসরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করছেন। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৬ এবং চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারের পূর্বানুমতি ব্যতিত কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো ব্যবসা বা লাভজনক প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন না। এটি ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে বলেন, সমন্বয় সভায় কিছু অনিয়ম হয়েছে। বিস্তারিত সরাসরি কথা বলবেন বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা বিএনপি সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, আমাকে গোলাম রহমান বাবু তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডেকেছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও উপস্থিত।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) নজরুল ইসলাম বলেন, মাসিক সমন্বয় সভায় শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছাড়া বহিরাগত কারো উপস্থিত থাকার নিয়ম নেই। নিয়মবহির্ভূত এই আয়োজনের বিষয়ে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরীফুল আলমও বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গোলাম রহমান এর আগেও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিকে সংবর্ধনা দেওয়ার মাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলেন। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও বারবার এ ধরনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা গোলাম রহমানের সঙ্গে ফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এএমকে

বিজ্ঞাপন